সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনিরের সঙ্গে কি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন! এ প্রশ্ন এখন পাকিস্তানের জনগণের মুখে মুখে। এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। চায়ের আড্ডায় উঠছে আলোচনার ঝড়। বিষয়টি বেশ ঘোলাটে হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইমরান খানকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনীতিতে দ্রুতই পাল্টে যাচ্ছে দৃশ্যপট। সর্বশেষ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জিও নিউজের উপস্থাপক শাহজেব খানজাদা রিপোর্ট করেছেন যে, সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়েছেন ইমরান খান। এমন অনুরোধ করে সেনাপ্রধানের কাছে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন সেনাপ্রধান। এর ঠিক উল্টো কথা বলছেন ইমরান খানের সময়কার তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ চাননি পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারপারসন ইমরান খান।
দু’দিন আগেই শেষ হয় তাকে গ্রেপ্তারের নাটক। শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদ হাইকোর্ট তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত করেছে। এরই মধ্যে সেনাপ্রধানের সঙ্গে তার সাক্ষাতের বিষয় উঠে এসেছে মুখে মুখে।
জিও নিউজের প্রোগ্রাম ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক শাহবেজ খানজাদা বলেন, জেনারেল অসীম মুনির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সোমবার রাতে মিটিংয়ে বলেছেন, সাক্ষাৎ চেয়ে তার কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন পিটিআই প্রধান ইমরান খান। তবে এ তথ্যের বিষয়ে সূত্রের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। বলেন, ইমরানের আবেদনের জবাবে জেনারেল অসীম তাকে জানিয়ে দিয়েছেন, সেনাপ্রধান হিসেবে রাজনীতিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা তার কাজ নয়। তিনি আরও জানিয়ে দিয়েছেন সেনাবাহিনীর কাজ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা নয়। এক্ষেত্রে তারা কোনো ভূমিকা পালন করবে না। রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিক নেতাদেরকেই মিটিয়ে ফেলতে হবে।
ওই অনুষ্ঠানে সিনিয়র উপস্থাপক ও সাংবাদিক হামিদ মীর বলেন, জেনারেল অসীম মুনির এবং ইমরান খানের মধ্যে একটি মিটিং আয়োজনের চেষ্টা করেছেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। প্রেসিডেন্টকে সেনাপ্রধান বলেছেন, তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চান। অথচ এর একদিন আগে ফাওয়াদ চৌধুরী দাবি করেন, ব্যক্তিগতভাবে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে সেনাপ্রধান অসীমের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো আবেদন কখনও করেননি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টও কখনো পিটিআই চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তিনি পিটিআই প্রধানকে এ বুদ্ধি দেননি যে, সেনাবাহিনী যেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন। এসব নিয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ হচ্ছে তা ভিত্তিহীন।
সাংবাদিক কামরান খানও দাবি করেছেন, সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ করেছেন ইমরান খান, যাতে সেনাপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও ইমরান খানের মধ্যে সাক্ষাৎ নিশ্চিত করে দেন। তিনি দাবি করেন, ইমরান খান শুধুই সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন। দ্য নিউজে বলা হয়েছে, দেশের শীর্ষ ১০ জন ব্যবসায়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছিলেন সেনাপ্রধান। এ সময় তিনি অর্থমন্ত্রী ইশহাক দারের উপস্থিতিতে নিশ্চিত করেন যে, আসন্ন দেউলিয়া হওয়ার হুমকি কেটে গেছে। সবচেয়ে খারাপ সময় আমাদের পিছনে চলে গেছে। পাকিস্তান একটি জাতি হিসেবে উঠে দাঁড়াবে।
সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে এতকিছু বলা হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর)। তবে সূত্রগুলো বলেছেন, মিটিংয়ে আশাবাদী দেখা গেছে সেনাপ্রধানকে। তিনি আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কেটে যাবে।


