শফিউল আলম, রাউজান : রমজান মাস শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম ধর্মীয় অনুসারীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ঈদুল ফিতরের দিনে নতুন জামা কাপড় পরে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে সকল বয়সের নারী পুরুষ. যুবক, যুবতী, তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী,ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাউজানে বিভিন্ন শপিং মল গুলোতে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে নানা বয়সী নারী- পুরুষেরা।পরিবার ও প্রিয়জনের জন্য নতুন জামা কাপড় কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।ক্রেতা বিক্রেতার হাঁক-ডাকে সরগরম ছোট-বড় মার্কেট, শপিং মল ও ফুটপাত। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাউজান উপজেলা সদরের ফকির হাট, ডিউ বিজি শপিং মল, তাহের প্লাজা মার্কেট, সিটি সেন্ট্রার, চৌধুরী মার্কেট, ছত্তার মার্কেট, মা মনি শপিং মল, রাউজান ফকির হাট মধ্য বাজার, পুর্ব বাজার, মুন্সির ঘাটা, হাজী আবছার মার্কেট, হলদিয়া আমির হাট, গহিরা চৌমুহনী বাজার, নোয়াজিশপুর নতুন হাট বাজার, নোয়াপাড়া পথের হাটের ভারতেরশ্বরী প্লাজা মার্কেট, আমির মার্কেট, খায়েজ মার্কেট, সতিশ মার্কেট, পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় মকবুল টাওয়ার, রহমান প্লাজা, ইব্রাহিম টাওয়ার সহ বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে দেশি-বিদেশী নামি দামি বাহারি রঙের পোষাক থরে থরে সাজানো রয়েছে। ক্রেতারা যার যার পছন্দ মতো জামা কাপড় কিনতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দেখছে। ক্রেতাদের পছন্দের কেনাকাটার মধ্যে রয়েছে শাড়ী, থ্রী পিস, কামিজ, থান কাপড়, দেশী-বিদেশী তাতের শাড়ী, ছেলেদের প্যাণ্ট, শার্ট, পাঞ্জাবী ও ছোট বাচ্চাদের বাহারি ডিজাইনার পোষাক।পাশাপাশি জুয়েলারি, কসমেটিকস, ব্যাগ, স্যান্ডেল, জুতার দোকানেও উপচে পড়া ভিড়।ক্রেতাদের মধ্যে বেশীর ভাগ রয়েছে নারী ও কিশোর কিশোরীরা। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেনাকাটা করতে শপিং মল ও মার্কেট গুলোতে দেখা যায়। আবার কেউ কেউ প্রিয়জন ও প্রিয় মানুষদের নিয়ে পছন্দের পোশাক কেনাকাটা করছে।ফকিরহাট চৌধুরী মার্কেটের ব্যবসায়ী সাকিদুজ্জামান শফি বলেন, প্রতিবছরের মতো এ বছরও মোটামুটি বেচাকেনা হচ্ছে।
ঈদুল ফিতরের বাকি আর মাত্র ১৫ দিন। তাই মার্কেট গুলোতে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতাসমাগম হচ্ছে। রাউজান মায়া শাড়ীজ, ফকির হাট বাজারের মায়পরী, আলো শাড়ীজ, ণাকি কর্ণারে এবারের ঈদের কেনাকাটার জন্য প্রতিদিন ক্রেতাদের ভীড় বেশী দেখা যায়। রাউজান ফকির হাট বাজারের ডিউ বিজি শপিং মার্কেটের মায়া শাড়ীজ এর মালিক নাজিম উদ্দিন বলেন, এবারের ঈদে মেয়েদের কালেকশনের মধ্যে রয়েছে ‘জামদানি শাড়ি,ঢাকাই বেনারসি,রাজশাহী রেশমী শাড়িটাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি, কাতান শাড়ি,পাবনার শাড়ি সুতি শাড়ি, মণিপুরী শাড়ি, পাকিস্তানি, ভারতীয়, নতুন ফারসি, রাজগুরু, বুটিকসহ বিভিন্ন ধরনের শাড়ি। পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান থ্রি-পিস, বুটিক থ্রি-পিস, সারারা, গাড়ারা, আফগান ড্রেসের চাহিদাও বেশি। তবে ক্রেতারা তাদের পছন্দের জামাকাপড় ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। দোকানে বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। ফকির হাট মারহাবা ফ্যাশনও জাহাঙ্গীর পাঞ্জাবি ফ্যাশনের জাহাঙ্গীর ও এমরান বলেন, পুরুষদের পায়জামা-পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, গেঞ্জি, টিশার্ট ও ছোট বাচ্চাদের রয়েছে পাঞ্জাবি পায়জামা, শার্ট-প্যান্ট, গেঞ্জিসহ ইত্যাদি।এখন রাত ২টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। তবে ডিউ মার্কেটে আসা কয়েকজন ক্রেতাসাধারন বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবছর জামাকাপড়ের দাম কিছুটা বাড়তি। সব ধরনের কাপড়ের দাম ক্রয় করতে এসে আগের চেয়ে বেশী দামে থেকে কাপড় ক্রয় করতে হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ সত্য নয় জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার ফলে কাপড়ের দামও বেড়েছে তবে তা অতিরিক্ত নয়। রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাউজানের শপিং মল মার্কেট গুলোতে নিরাপত্তায় রাত-দিন আলাদা পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।


