সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হয়।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন। তবে গতবারের তুলনায় এবার ছাত্রের সংখ্যা কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, নিবন্ধন করলেও বিভিন্ন কারণে এবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি ২৯ হাজার ৫৪২ জন শিক্ষার্থী। ঝরে পড়া এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরীক্ষার্থী বেশি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে নগরের জামালখান এলাকার ডা. খাস্তগীর বালিকা বিদ্যালয় ও কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়। অনেকেই শেষ মুহূর্তে কেন্দ্রের পাশে ফুটপাতে বসে বই-নোট দেখে নিচ্ছিল, আবার কেউ কেউ অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা শেষে কেন্দ্রে প্রবেশ করছিল। অভিভাবকরাও সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দিচ্ছিলেন।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৭৬টি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। এর মধ্যে ৬৬টি সাধারণ এবং ১০টি বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানান, প্রতিটি কেন্দ্রের আশপাশে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিভাবকদের মধ্যে ছিল উদ্বেগ, সঙ্গে ছিল প্রত্যাশাও। মো. জাহাঙ্গীর আলম নামে একজন বলেন, সন্তানের জন্য দোয়া করছি। পরিবেশ ভালো আছে, নিরাপত্তাও সন্তোষজনক মনে হয়েছে।
আরেক অভিভাবক রাবেয়া খানম বলেন, পরীক্ষার চাপ তো আছেই, তাই একা পাঠাতে মন চাইছিল না। পাশে থেকে একটু সাহস দিতে এসেছি। সন্তান যেন ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।


