চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে হবে।আগে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড ও ঢাকার সমাবেশে সরকারের শত বাধা বিপত্তির পরও লোকে লোকারণ্য হয়েছিল। চট্টগ্রাম হচ্ছে রাজনীতির তীর্থ স্থান। এই চট্টগ্রাম থেকে শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি লড়াই করে ব্যর্থ হন নি। আমরাও হবো না।আওয়ামিলীগ যে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, আমরা লড়াই করে তা পুনরুদ্ধার করবো। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই। এটা হলো আমাদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ। বিএনপি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারী বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে।তিনি বলেন,দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্ধ্বগতিতে জনগণ আজকে দিশেহারা। সরকারের সিন্ডিকেটের কারণে জনগণের এই বেহাল দশা। সরকার জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা না করে জনগণের পকেট কাটার পায়তারায় লিপ্ত। দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সহ প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়িয়ে জনগণকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। জনগণ এখন এই সরকারের পাশে নেই।
আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে আজ ১ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন একথা বলেন।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলুর পরিচালনায় প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি হারুন আল রশিদ, মামুনুর রহমান, মঈনুদ্দিন রাশেদ, হারুনুর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী মর্তুজা খান, যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, সিরাজুল ইসলাম ভূইয়া, এম. আবু বক্কর রাজু, গোলাম সরোয়ার, আনোয়ার হোসেন এরশাদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, দিদার হোসেন, জাকির হোসেন,মোকলেছুর রহমান, নিজাম উদ্দিন বুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক খান, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এসকান্দর, সদস্য রাজিব, হালিশহর থানা আহবায়ক আনোয়ারুল কাফি মুন্না, বায়েজিদ থানা আহবায়ক আলতাফ হোসেন, আকবর শাহ থানা আহবায়ক থানা আহবায়ক হাসান মাহমুদ, বন্দর থানা আহবায়ক রিয়াজ উদ্দিন রাজু, চান্দগাঁও থানা আহবায়ক সাজিদ হাসান রনি, কোতোয়ালি থানা আহবায়ক এন মোহাম্মদ রিমন,বাকলিয়া থানা আহবায়ক দুলাল মিয়া, ডবলমুরিং থানা সদস্য সচিব নোমান সিকদার সোহাগ, সদরঘাট থানা সদস্য সচিব আনোয়ারুল আবেদিন মুন্না,চান্দগাঁও থানা সদস্য সচিব মো. শহীদুজ্জামান, আকবর শাহ থানা সদস্য সচিব তৌসিফ আহমেদ চৌধুরী, থানা যুগ্ম আহবায়ক আবু সালেহ আবিদ, সজল বড়ুয়া, নবী হোসেন, নাজিম উদ্দিন সহ নেতৃবৃন্দ।
প্রধান বক্তা নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, সারাদেশে বিএনপির জনসমাবেশে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখে সরকার আজ ভয়ে ভীত হয়ে গিয়েছে। তাই তারা নেতাকর্মীদের হামলা মামলা করে ভয় দেখাতে চাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীরা সে ভয়কে আজ জয় করে ফেলেছে। তারা প্রমান করেছে যত বাধায় আসুক আমাদের নেতা কর্মীরা পিছপা হয়না।তিনি বলেন,বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার বাংলাদেশ রাষ্ট্রকাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে ফেলেছে। তারা এখন প্রশাসন, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রযন্ত্র, এমনকি গণমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। আওয়ামীলীগ জোর করে ক্ষমতায় ঠিকে আছে। তারা এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরোধীতা করছে। কারণ আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু নির্বাচনকে ভয় পায়।
সভাপতি বক্তব্যে এইচ এম রাশেদ খান বলেন,ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এই সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এই সরকার থাকলে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে না। তাই ফয়সালা হবে রাজপথে। রাজপথে যখন নেমেছি, আদায় করে ছাড়বো। তাদেরকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে বাধ্য করবো।


