চট্টগ্রাম-৫ আসনে মনোনয়ন পত্র বাতিলের পর জাতীয় পার্টির নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিএনপি নেতাকর্মীদের জড়িয়ে যে ন্যাক্কারজনক বক্তব্য দিয়েছেন, তার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আজম উদ্দিন, সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন, এম এ ফায়েজ, হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদ ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন চেয়ারম্যান এবং হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব জাকের হোসেন ও সদস্য সচিব ওহিদুল আলম ওহিদ।
২ নাম্বার জালালাবাদ ওয়াড বিএনপি আহবায়ক মোহাম্মদ বেলাল, ৪৪ নং সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপি আহবায়ক মামুন আলম, ২ নং জালালাবাদ ওয়ার্ড বিএনপি সদস্য সচিব আব্দুল করিম ৪৪ নং সাংগঠনিক ওয়ার্ড সদস্য সচিব মোঃ খোকন এক
বিবৃতিতে বিএনপি নেতারা বলেন, গতকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম-৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়। বাতিলের সময় সুনির্দিষ্ট স্বাক্ষর জালিয়াতির কারণ উল্লেখ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু আমরা অবাক বিস্ময়ে দেখলাম, মনোনয়নপত্র বাতিলের পর এক সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এজন্য বিএনপির প্রার্থী হাটহাজারীর জনপ্রিয় ও অবিসংবাদিত তরুণ নেতা ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর দায় চাপিয়েছেন। আমরা তার অভিযোগ ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি, এর সঙ্গে হাটহাজারীর আপামর মানুষের নেতা ব্যারিস্টার মীর হেলাল কিংবা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই।
তারা আরও বলেন, আমরা পত্রিকান্তরে জেনেছি, আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রার্থীতা বাতিলের দাবিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার আনিসুল বিক্ষোভকারীদের বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তার প্রস্তাবক ও সমর্থককে অপহরণের অভিযোগ করেন । অথচ চট্টগ্রামের জনগণ অবগত আছেন যে, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ যখন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন, তখন থেকেই চট্টগ্রামের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা এবং জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একজন জুলাই যোদ্ধা তাকে গ্রেফতারের জন্য সিএমপি কমিশনার এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বরাবরে আবেদনও করেছেন। এবং একই দাবিতে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবরও আবেদন করেন।
প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, গতকাল মনোনয়ন পত্র যাচাইবাছাইয়ের সময় আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রার্থীতা বাতিলের জন্য সেই আন্দোলনকারী জুলাই যোদ্ধারাই বিক্ষোভ করেন। কারণ, পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদি শাসন টিকিয়ে রাখতে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের ভূমিকা সর্বজনবিদিত। তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে হাটহাজারীর সংসদ সদস্য পদ দখল নিয়েও হাটহাজারীবাসী তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডসহ নানা অভিযোগে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বিরুদ্ধে হাটহাজারী ও নগরীর বিভিন্ন থানায় কয়েকটি জুলাই আগস্ট অভ্যুত্থানের ছাত্র জনতা হত্যা মামলা আছে। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করায় জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ আছে।
এর ফলশ্রুতিতে জুলাই যোদ্ধাদের বিক্ষোভকে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর মতো করে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। এটা একান্তই তার স্বাক্ষর জালিয়াতির থেকে দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার হীন চেষ্টা মাত্র। তার জানা উচিৎ, ১৭ বছর অপকর্মের পরও, হাটহাজারীর বিএনপি নেতাকর্মীদের অমানুষিক অত্যাচার-নির্যাতনের পরও ব্যারিস্টার মীর হেলাল কিংবা বিএনপির কোনো নেতাকর্মী ব্যক্তিগত আক্রোশে কোনো একটি প্রতিশোধমূলক ঘটনারও জন্ম দেয়নি। বরং মানুষের ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে সামাল দিয়েছেন ব্যারিস্টার মীর হেলাল। এজন্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল আজ হাটহাজারীর দলমত, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য অবিসংবাদিত নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন।
আমাদের ধারণা, জনগণের ক্ষোভের কারণে সম্ভবত ব্যারিস্টার আনিসুল মাঠে নামতে ভয় পাচ্ছেন, যে কারণে মনোনয়ন জমা দেয়ার জন্যে তিনি নিজে আসেননি, প্রস্তাবক হিসেবে যে আলমগীরকে পাঠিয়েছেন সেই আলমগীরও জুলাই অভ্যুথানের ছাত্র হত্যা মামলার আসামী। ব্যারিস্টার মীর হেলালের প্রবাদপ্রতিম জনপ্রিয়তা দেখেও তিনি ভীত হয়েছেন। এ কারণে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের টার্গেট করে আবোল-তাবোল বকছেন। তার এসব মিথ্যাচারের জবাব হাটহাজারীবাসী দেবেন, এ বিশ্বাস আমাদের আছে।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।


