মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ দিনে চট্টগ্রামের সাতটি সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হকসহ ১৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ৪৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন।
রোববার সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার ড. মো. জিয়াউদ্দিন এবং জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করেন।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
রোববার সকালে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এ সিদ্ধান্ত জানান।
জানা গেছে, ডা. ফজলুল হক হলফনামায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি উপস্থাপন করলেও এর পক্ষে কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। তিনি হলফনামায় দাবি করেন, গত ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন।
বাছাইয়ের সময় তিনি জানান, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করা হয়েছে এবং সোমবার এ বিষয়ে শুনানি হবে। তবে এখনো দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হচ্ছেন- বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. শফি উদ্দিন কবির, ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন, জনতার দলের প্রার্থী হায়দার আলী চৌধুরী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী তথ্য না দেওয়ায় সিপিবির প্রার্থী মো. সেহাব উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজাদ চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
বৈধ প্রার্থীরা হচ্ছেন- বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আবু নাসের, ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নুরুল আলম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ ও এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ।
চট্টগ্রাম-১০ আসনে ১১ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিএনপি ও জামায়তে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্র ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র যাদের বাতিল হয়েছে তারা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী আরমান আলী ও ওমর ইউসুফ খান। প্রার্থিতা বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১ শতাংশ ভোটারের সঠিকতা প্রতীয়মান না হওয়া। জাতীয় পার্টির প্রার্থীও ফরম ২১ যথাযথভাবে পূরণ না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। লেবার পার্টির প্রার্থী মো. ওসমান গণির মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে জামানতের টাকা ভুল কোডে জমা দেওয়ার কারণে। এছাড়া খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আলী ওসমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে হলফনামায় স্বাক্ষর না করায়।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনটিতে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন।
বাতিল করা হয়েছেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আলী আব্বাস ও গণ অধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমানের।
দলীয় প্রার্থী হিসেবে চিঠি দেখাতে না পারা এবং ভুল প্রস্তাবকের কারণে তার দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মো. মুজিবুর রহমান চারটি ব্যাংকের চট্টগ্রামের বিভিন্ন শাখায় ব্যক্তিগত ঋণখেলাপি হওয়ায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
বৈধ ঘোষণা হওয়া প্রার্থীরা হচ্ছেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সরওয়ার জামাল নিজাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ ইমরান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুর রব চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মোহাম্মদ এমরান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মু. রেজাউল মোস্তফা।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমেদের প্রার্থিতা সকালে স্থগিত করা হলেও বিকালে বৈধ ঘোষণা করা হয়। ঋণের টাকা জমা দেওয়ার কাগজ-পত্র জমা দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুল হক চৌধুরী ও মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আরও ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন- বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মৌ. মো. সোলাইমান, এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুক, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ বাদশা মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এইচ এম ইলিয়াছ।
চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া): তিন প্রার্থীর সবার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরী ও বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমীন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আসনটিতে সবচেয়ে কম প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। তিনজন প্রার্থীর সবার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে এক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি হলেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আরিফুল হক। জমা দেওয়া হলফনামা ও অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবদুল মালেক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মুহাম্মদ মুসা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এহসানুল হক, এলডিপির মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ রুহুল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী।
চট্টগ্রামের সাতটি সংসদীয় আসনে ১৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল
সংবাদটি শেয়ার করুন
একটি মন্তব্য করুন
একটি মন্তব্য করুন


