মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, প্রিয় চট্টগ্রাম: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগামী ১৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সফরের খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। দীর্ঘ সময় পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সফরকে ঘিরে চট্টগ্রামে সৃষ্টি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা ও প্রাণচাঞ্চল্য। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ সফরকে কেন্দ্র করে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সূত্র অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যায় তারেক রহমান নগরের ঐতিহ্যবাহী জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচিনির্ভর। কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা বা রাজনৈতিক বক্তব্যের কর্মসূচি এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আচরণবিধির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই সফর পরিচালিত হবে।
দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারি তারেক রহমান প্রথমে কক্সবাজারে যাবেন এবং সেখানে শহীদ ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তিনি সড়কপথে চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন। সফরকে ঘিরে কোনো পথসভা বা জনসমাবেশের আয়োজন না থাকলেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেতাকর্মীদের ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি এনেছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা। তাঁরা বলছেন, এ সফর নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি দলকে আরও সুসংগঠিত ও দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট ইফতেখার মহসিন বলেন,
“তারেক রহমানের সফরের খবরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এটি দলের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্ত। সবাই ধারণা করছেন, তাঁর আসা-যাওয়ার পথে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামতে পারে, সৃষ্টি হতে পারে অভূতপূর্ব গণজোয়ার।”
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী বলেন, “দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আসার সিদ্ধান্ত তৃণমূল থেকে শুরু করে সব স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশা ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছে। এই সফর সংগঠনকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল করবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে অরাজনৈতিক হলেও এ ধরনের সফর নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করে, যা দলীয় সংগঠনের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এ সফর সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল রাজনীতির একটি উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর বিএনপির জন্য একটি উৎসাহব্যঞ্জক মুহূর্ত—যা নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা দিচ্ছে।
তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর: বাড়ছে আশাবাদ ও উদ্দীপনা
সংবাদটি শেয়ার করুন
একটি মন্তব্য করুন
একটি মন্তব্য করুন


