পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও সম্মিলিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আলোচনা, আস্থা বৃদ্ধি ও সহযোগিতামূলক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সাফা) আয়োজিত ‘নেক্সট জেনারেশন প্রফেশন: কনভার্জিং এথিক্যাল এআই অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা জোরদারে কাজ করছে। তিনি জানান, নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও টেকসই রিপোর্টিংয়ের সমন্বয় বর্তমান বিশ্বে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন পেশাগত ক্ষেত্রকে রূপান্তরিত করছে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক সংহতি শক্তিশালী করতে প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। পেশাজীবীদের শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, নৈতিক এআই ও টেকসই রিপোর্টিংয়ের সমন্বয়ের ফলে বিশ্বব্যাপী অ্যাকাউন্টিং পেশা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যা ব্যবসায়িক ঝুঁকি, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও জনআস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে।
এই সম্মেলনে আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান এবং ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া।
এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (আইএফএসি)-এর সভাপতি জ্যঁ বুকো প্রথমবারের মতো ঢাকায় এসে সম্মেলনে অংশ নেন। তিনি বলেন, সততা ও জনস্বার্থকে কেন্দ্র করে এআই পরিচালনা করা গেলে হিসাববিদরা অনিশ্চয়তাকে সুযোগে রূপান্তর করতে পারবেন এবং একটি টেকসই অর্থনীতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবেন।


