বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, বন্যপ্রাণী দেখা প্রতিযোগিতা, র্যালি ও কুইজসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ৭ টার দিকে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বন্যপ্রাণী দেখা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দিবসের সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের মোট ১১২১ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর মধ্যে ৩৩১ প্রজাতির উপস্থিতি রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। আলোচনা সভায় এ তথ্য তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. ফরিদ আহসান।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ‘ওষধি ও সুগন্ধি উদ্ভিদ: স্বাস্থ্য ঐতিহ্য ও জীবিকার সংরক্ষণ’ প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হয়। সকাল ৭টায় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বন্যপ্রাণী দেখা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে বন্যপ্রাণী বিষয়ক উপস্থাপনা ও চেনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জীববিজ্ঞান অনুষদ থেকে শুরু হওয়া র্যালি মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, প্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ এখন বৈশ্বিকভাবে অস্তিত্বের প্রশ্ন। তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক ফরিদ আহসান জানান, দেশে থাকা ৭০ প্রজাতির ব্যাঙের মধ্যে ২২ প্রজাতি, ১৭০ প্রজাতির সরীসৃপের মধ্যে ৫৯ প্রজাতি এবং ৭৩২ প্রজাতির পাখির মধ্যে ২৩০ প্রজাতি এই ক্যাম্পাসে পাওয়া যায়। এছাড়া ১৩৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রজাতি এখানে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সহসভাপতি গোলাম শফিক ও চিটাগাং বার্ড ক্লাবের উপদেষ্টা ডা. মহিউদ্দিন সিকদার। সভাপতিত্ব করেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোসাম্মৎ রাশেদা চৌধুরী।
আলোচনা শেষে বন্যপ্রাণী বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিবসটির আয়োজন করে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বার্ড ক্লাব। সহযোগিতায় ছিল প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব।


