শফিউল আলম, রাউজান: চট্টগ্রামে রাউজান সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল এক সময়। সেই পরিচিতি আবার ফিরে এসেছে গত বছর ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর। সেই থেকে একের পর এক ঘটছে সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড। পুলিশের খাতার হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে ২১ মাসে ২৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে বিএনপির ১৬ জন নেতাকর্মী, আওয়ামী লীগের ৫ জন এবং পারিবারিক কলহের জেরে ১ জন নিহত হয়েছেন।
রাউজানে পাহাড় টিলা কাটা, কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা, চাদাঁবাজী নিয়ে আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে এক গ্রুফ অপর গ্রুফকে ঘায়েল করতে হত্যাকান্ড সংর্ঘষের ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। আবার এগুলোর বেশির ভাগই প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে চরম নাকানি-চুবানি খাচ্ছে রাউজান থানায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। সর্বশেষ গত ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) দিবাগত রাতে রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের আ্ইলী খীল খামার টিলা এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে কাউসাউল আলম বাবুলু নিহত হয়। এর একদিন পর গত ২৬ এপ্রিল (রবিবার) দিবাগত রাত ৯ টার সময়ে রাউজানের দক্ষিন শমশের পাড়া এলাকায় যুবদল নেতা নাসির উদ্দিনকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে।
সব ক্ষেত্রে দলীয় পদ-পদবি না থাকলেও এসব বাহিনীর প্রধানরা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের নাম-পরিচয় ব্যবহার করেই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত ২১ মাসে রাউজান থানা থেকে চারবার ওসিকে বদলি করা হয়। তবু পরিস্থিতি অস্থিতিশীল।এর আগে হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট এলাকায় গত ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে করে আসা অস্ত্রধারীদের ছোড়া গুলিতে নিহত হন রাউজানের বাগোয়ানের ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আবদুল হাকিম (৫২) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ৭০টি সংঘর্ষ হয়েছে। পাশাপাশি ২৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এগুলোর ১৬টি রাজনৈতিক। তার মধ্যে ১২টি হত্যার ঘটনায় পরিবার থেকে মামলা করা হলেও তিনটির ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ।নিহতদের মধ্যে বিএনপি ও যুবদলের ১০ জন রয়েছেন। তারা হলেন- আলমগীর ওরফে আলম, আলমগীর আলমের এক সহয়োগী, মুহাম্মদ আবদুল হাকিম, সেলিম, কমর উদ্দিন জিতু, ইব্রাহিম, দিদারুল ও মানিক আবদুল্লাহ, কাউসারুল আলম, বাবলু, নাসির উদ্দিন। আওয়ামী লীগের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন- আবদুল মান্নান, মুহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, আবু তাহের ও মুহাম্মদ হাসান। এছাড়া ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম খুন হন।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে নোয়াপাড়া ও কদলপুর, রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে ঐসব এলাকায় রয়েছে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী।বিএনপি নেতাদের মদদে এসব বাহিনীর বেশির ভাগই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গড়ে উঠেছে। যাদের আতঙ্কে নির্বিকার স্থানীয়রা। এক সময়ে বেশ কিছু সন্ত্রাসী আর্ত্নগোপনে থাকলে ও গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে আর্ত্নগোপনে থাকার সন্ত্রাসীরা রাউজানে এসে প্রকাশ্যে রাজার হালে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীরা গড়ে তুুলেছে কিশোর গ্যাং। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে তুলে দিয়ে অস্ত্র। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের আইলী খীল খামার টিলা এলাকায় কাউসার উল আলম বাবলু হতাকান্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। বাবলু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্য আসামীদেরকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। কদলপুরে নাসির উদ্দিন হত্যকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদেরকে ও পুলিশ গ্রেফতার করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসীরা আপরাধ সংগঠিত করে রাউজানের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় চলে যায়। এতে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে হিমশিম খেতে হয়। রাউজানে কয়েকটি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হলেও জেল থেকে জামিনে বের হয়ে এসেছে।


