চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অভিনব কৌশলে পেটের ভেতর করে পাচার করা ১৯ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ চার রোহিঙ্গা মাদক কারবারিকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)।
সোমবার (৪ মে) বিকেলে কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আ হ ম ফারুক এসব তথ্য জানিয়েছেন।
আটকরা হলেন- জিয়াউর রহমান (৩৫), মো. সাকের (২৮), আবু তৈয়ব (৩৫) ও জাফর মিয়া (৪০)। তারা প্রত্যেকে উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নাগরিক।
সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আ হ ম ফারুক জানান, একটি রোহিঙ্গা মাদক কারবারি চক্র ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে কক্সবাজার থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছে। রোববার রাতে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানাধীন ঠাকুরদিঘী বাজার এলাকার ‘টাইম ক্যাফে’ রেস্টুরেন্টে এর সামনে মহাসড়কে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় কক্সবাজার হতে চট্টগ্রামগামী ‘হানিফ পরিবহন’ এর একটি লোকাল বাস থেকে নামা ৪ জন যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় র্যাবের চৌকস দল তাদের আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করে যে, তাদের পেটের ভেতরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে রিপোর্টের মাধ্যমে তাদের পেটে ইয়াবা সদৃশ বস্তুর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাদের পেট থেকে ইয়াবাগুলো পায়ুপথে নির্গত মলের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, পাচারের উদ্দেশ্যে প্রতিটি পুঁটলিতে অর্ধশতাধিক ইয়াবা কয়েক স্তরে পলিথিন ও কসটেপ দিয়ে মুড়িয়ে তারা কলা বা পাউরুটির সঙ্গে গিলে ফেলে। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তারা বিশেষ সিরাপ ও সবজি খেয়ে মল ত্যাগের মাধ্যমে এই ইয়াবাগুলো বের করে আনে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করা এই পদ্ধতিটি যেমন ভয়ংকর, তেমনি চরম কুরুচিপূর্ণ ও নোংরা।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানায় র্যাবের এই কর্মকর্তা।


