শফিউল আলম, রাউজান: দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মা মাছের ডিম ছাড়ার পর ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম সংগ্রহ করার পর ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম ফুটানোর পর ডিম থেকে রেনু উৎপাদন করেছে। মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে হালদা নদী থেকে নদীর প্রথম গত ২৯ এপ্রিল বুধবার রাতে ও গত ৩০ এপিল বৃহস্পতিবার দিনে ও দিবাগত রাতে জোয়ারের সময়ে হালদা নদী থেকে ৬ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করেন ডিম ষংগ্রহকারীরা। ডিম সংগ্রহ করার পর হ্যচারী ও নদীর তীরে খনন করা মাটি কুয়ায় সংগৃহিত মা মাছের ডিম ফুটিয়ে রেণু উৎ]পাদন করেন ডিম সংগ্রহকারীরা। সংগৃহিত ৬ হাজার কেজি ডিম থেকে ১শত ৫২ কেজি রেনু উৎপাদন করা হয়েছে বলে জানান রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস অফিসার তোফাজ্ঝেল হোসেন ফাহিম।
৫ মে (মঙ্গলবার) রাউজানের গহিরা মোবারক খীল, পশ্চিম বিনাজুরী আই, ডি, এফ এর হ্যচারী, হাটহাজারীর মাছুয়া ঘোনা, শাহ মাদারী, মদুনাঘাট হ্যচারীতে ও নদীর তীরে খনন করা মাটির কুয়ার ফুটানো রেনু বিক্রয় করছে ডিম সংগ্রহকারীরা। প্রতি কেজি রেণু ১লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে ১লাখ ৪০ হাজার, ১লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বিক্রয় করছে। চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৎস হ্যচারী, মৎস প্রকল্পের মালিক, মাছ চাষীরা রেনু ক্রয় করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
হালদা নদীর মা মাছের ডিম থেকে ফুটানো রেনু পুকুর জলাশয়, হ্যচারী, দিঘি, মৎস প্রকল্পে ফেলে হ্যচারীর মালিক ও মাছ চাষীরা মাছ চাষ করে কোটি কোটি কোটি টাকার মাছ উৎপাদন করবেন। হালদা নদীর মা মাছের ডিম থেকে ফুটানো রেনু থেকে রুই, কাতাল, মৃগেল মাছ. কালীবাউশ মাছের জাত রয়েছে। হালদা নদীর মাছের ডিম থেকে উৎপাদিত রেনু বিক্রয় করে ডিম সংগ্রহকারীরা প্রথম দফে ২ কোটি টাকা পাবে বলে আমা করছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস অফিসার তোফাজ্ঝের হোসেন ফাহিম বলেন, হালদা নদীর মা মাছের ডিম থেকে ফুটানো রেনু বিক্রয় করছে ডিম সংগ্রহকারীরা। রেনু ক্রয় করতে হ্যচারীগুলোতে এসেছে মাছ চাষী ও হ্যচারীর মালিকরা। মাছুয়া ঘোনা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী শফিউল আলম বলেন, মাছুয়া ঘোনা হ্যচারী থেকে ৩ কেজি রেনু বিক্রয় করা হয়েছে। প্রতি কেজি রেনু ১‘লাখ ৫০ হাজার টাকা করে। হালদা নদীতে মা মাছের ডিম নমুনা ডিম বলা হলে ও মৌসুমে প্রথবারের মতো ডিম ছাড়ার পরিমাণ বেশী। আগামী আমবস্যার তিথিতে আবারো পুরোদমে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। চট্টগ্রাম কন্টেনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হালদা গবেষক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন ধরে কাল বৈশাখীর সময়ে ভারী বর্ষন ও বজ্রপাত হওয়ায় নদীতে পাহাড়ী ঢলের শ্রোতের পানি প্রবাহিত হওয়ায় পুর্ণিমার তিথিতে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ে মৌসুমে প্রথম ধাপে। আগামী আমবস্যার তিথিতে প্রবল বর্ষণ ও বজ্রপাত হলে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়বে।


