চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া এবং অবৈধ দখলমুক্ত একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে চসিকের ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা ও মনিটরিং এর নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
রোববার (৭ জুন) টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জলাবদ্ধতা নিরসন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, হকার ব্যবস্থাপনা, খাল-নালা রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
সভায় মেয়র অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখলকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, উচ্ছেদের পর পুনরায় যাতে দখল না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, হাসপাতাল এলাকা, জিইসি মোড়, আন্দরকিল্লা, জামালখান, স্টেশন রোড, মেডিকেল কলেজ এলাকা ও পর্যটন কেন্দ্র পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো অবস্থাতেই ফুটপাত ও সড়ক দখল করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না।”
মেয়র বলেন, “আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য জলাবদ্ধতামুক্ত একটি চট্টগ্রাম গড়ে তোলা। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা, খাল-নালা দখল এবং ফুটপাত ও সড়ক অবৈধভাবে ব্যবহার করার কারণে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। নগরবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি আইন প্রয়োগের মাধ্যমেও এ অবস্থা দূর করতে হবে।”
তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে খোলা ম্যানহোল, ভাঙা স্ল্যাব ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো জননিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে মেয়র বলেন, “নগরীর কোথাও ম্যানহোলের ঢাকনা বা স্ল্যাব অরক্ষিত অবস্থায় থাকবে না। মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।”
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, খাল ও নালা পরিষ্কারে সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি খাল ও নালার কাজ শুরুর আগে এবং কাজ শেষে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে বিল পরিশোধ করা হবে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই না কাগজে-কলমে কাজ হোক। বাস্তবে খাল-নালা পরিষ্কার হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করেই অর্থ পরিশোধ করা হবে। নগরবাসীর টাকায় পরিচালিত প্রতিটি প্রকল্পের সুফল জনগণকে পেতে হবে।”
মেয়র নগরীর বিভিন্ন খাল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খাল দখল এবং সংকোচনের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা বাড়ছে। এসব অবৈধ দখল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, “খাল, নালা ও জলাধার উদ্ধার করতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক পরিচয় কোনো বিবেচ্য বিষয় হবে না। নগরীর স্বার্থেই এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে।”
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মেয়র বলেন, অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। তাই ডাবের খোসা, পলিথিন, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেকোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা অপসারণে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নিয়মিত নজরদারি করতে হবে।
নগর সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম পাহাড়, নদী ও সাগরবেষ্টিত একটি অনন্য নগরী। বর্ষা মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে খালি জায়গাগুলোতে ফুল ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নগরকে আরও সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তর করা আমাদের লক্ষ্য। এজন্য সকল বিভাগকে আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।”


