সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও, কক্সবাজার: নতুন প্রাণ পাচ্ছে ‘সততা স্টোর’। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক’র উদ্ভাবন মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসায় স্থাপিত এই ‘সততা স্টোর’কে আরও গতিশীল করতে অর্থায়ন করা হচ্ছে। এ বছর কক্সবাজারের ৯ টি উপজেলায় ১৮টি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসায় অর্থ বরাদ্দ করেছে দুদক। ‘সততা স্টোর’ গতিশীল করার মাধ্যমে কৈশোরেই শিক্ষার্থীরা লোভ-লালসা ত্যাগ করে সততার সাথে বেড়ে ওঠার ‘হাতে-কলমে’ নতুন পাঠ গ্রহণ করবে বলে দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দুদক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সততা স্টোর হচ্ছে স্কুল প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিক্রেতাবিহীন দোকান। এসব দোকানে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণের পাশাপাশি বিস্কুট, চিপস, চকলেট ইত্যাদি রাখা হয়। প্রতিটি সততা স্টোরে পণ্যের মূল্য তালিকা ও পণ্যমূল্য পরিশোধের জন্য ক্যাশ বাক্সে রাখা হয়। থাকে না শুধু বিক্রেতা। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে নিজেরাই ক্যাশ বাক্সে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করবে-এটিই নিয়ম। এভাবেই শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে গ্রহণ করবে সততার প্রথম পাঠ।
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় কক্সবাজারের উপ সহকারী পরিচালক মো.মামুনুর রশিদ জানান, মানুষের ভালো গুণগুলোর মধ্যে প্রথমেই আসে সততা। পৃথিবীতে যত কঠিন কাজ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হলো সৎ থাকা। লোভ-লালসা ত্যাগ করে সৎ থাকাটা খুবই কঠিন একটা ব্যাপার। বর্তমান যুগে এই গুণটি বিরল। একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে যেন সৎ ব্যক্তিত্ব উঠে আসে, সেজন্য দুর্নীতি দমন কমিশন বের করেছে এক অভিনব কৌশল। আর সেটি ‘সততা স্টোর’।

সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কক্সবাজারের আওতায় ২০২৬ অর্থবছরে জেলার মোট ৯ টি উপজেলায় ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্টানে সততা স্টোর স্থাপনের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ২৫ জুন বৃহষ্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ বিতরণও শুরু হয়েছে।
সততা স্টোর প্রসঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, কক্সবাজার জেলা সাধারন সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু বলেন, আমরা মনে করি, ‘সততা স্টোর’ থেকে যেসব শিক্ষার্থী পণ্য কিনছে, পণ্য কেনার পাশাপাশি তাদের দিতে হচ্ছে সততা এবং বিবেকের পরীক্ষা। যে কেউ চাইলে এখান থেকে মূল্য পরিশোধ না করে চুপিচুপি পণ্য নিয়ে চলে যেতে পারবে কিন্তু তারা সেটা করছে না। কারণ, এটি একটি সততা চর্চাকেন্দ্র। সততার পরীক্ষায় আমাদের দৃষ্টিতে ‘ছোটরা’ হারতে চায় না। আমরা জানি, একটি সৎ, সমৃদ্ধ এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও দেশ গঠনে এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে তৈরি করা জরুরি।


