বিগত সময়ে গুমের শিকার পরিবারের কষ্ট ও বেদনার কথা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে মায়ের ডাক। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গুমের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বয়ে চলা স্বজন হারানোর বেদনা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গুম হওয়া ঘটনাগুলোর সঙ্গে আমরা আর সম্পৃক্ত হতে চাই না। এটি মানবতার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ (ক্রাইম অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি)। এর প্রকাশ্যে বিচার এবং শাস্তি হওয়া উচিত।
দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
আয়নাঘরের মতো ভয়াবহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাদের যে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, অহংকার ও দাম্ভিকতা ছিল, তা আজ ভেঙে চুরমার। আমি বিশ্বাস করি, একে একে প্রত্যেকেই আইনের মুখোমুখি হবে এবং প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে।
আবেগঘন কণ্ঠে বিএনপি মহাসচিব গুম হওয়া পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যতের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, যদি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের ভাতা দেওয়া হতে পারে, তবে গুম হওয়া পরিবারগুলো কেন বঞ্চিত থাকবে? আমরা আগামী বাজেটেই এই পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রাখব।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বজন হারানোর এই ক্ষতি টাকা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্র হিসেবে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি। এই শিশুগুলোর ভালো স্কুলে পড়া, ভালো থাকা এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি জানান, সম্প্রতি গুম হওয়া পরিবারের সন্তানেরা জাতীয় সংসদে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তার সাথেও সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাদের কথা বলিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের সমস্যাগুলো দেখার আশ্বাস দিয়েছেন এবং তিনি তা বাস্তবায়ন করবেন বলে বিএনপি মহাসচিব বিশ্বাস করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভবিষ্যতে যদি আবারও এমন কোনো স্বৈরাচারী আচরণ দেখা যায়, তবে সকলকে সম্মিলিতভাবে তা প্রতিরোধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গুম কিংবা অত্যাচারের মতো এই মানবিক বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কোনো দলীয় রাজনীতি করতে চাই না। এ ব্যাপারে আমরা সবাই এক। আমরা বিচার চাই, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে চাই এবং আইনের মাধ্যমে তাদের শক্তি ফিরিয়ে দিতে চাই।


