কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া: কক্সবাজার শহরে ১৩ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে মায়ের সামনে থেকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
মুমূর্ষু অবস্থায় পাঁচ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়।
নিহত কিশোরী সুমাইয়া আক্তার (১৪) স্থানীয় দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লী দারুল আমান মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্রী।
এই ঘটনায় মূলহোতা হৃদয় হাসান বাবু (২২) ও রোকেয়া নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার প্রাথমিক ব্যাখ্যা নিয়ে পুলিশ ও নিহতের পরিবারের মধ্যে চরম মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
নিহত কিশোরীর পরিবারের দাবি, তারা যে ভাড়া বাসায় থাকতেন, সেই বাড়ির মালিকের সঙ্গে কিছুদিন ধরে তাদের বাগবিতণ্ডা চলছিল। গত ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭ টার দিকে কক্সবাজার শহরের সাহিত্যপল্লী এলাকায় কিশোরীর মায়ের সামনে থেকেই তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায় একই এলাকার বাসিন্দা হৃদয় হাসান বাবু, নায়েমসহ কয়েকজন। পরবর্তীতে পুলিশি সহায়তায় রামু এলাকায় নায়েমের বাড়ি থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর কিশোরীর পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে শহর পুলিশ ফাঁড়ির এক কর্মকর্তা বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়া সত্ত্বেও তখন আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে উভয় পক্ষকে ডেকে সমঝোতা করে দেওয়া হয়। যথাযথ সময়ে ব্যবস্থা নিলে হয়তো মেয়েটিকে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না বলে তাদের আক্ষেপ।
কিশোরীর স্বজনদের অভিযোগ, অপহরণের পর তাকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। সেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিনজানান, “প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি, বাবুর সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা পালিয়ে গিয়েছিল। পরিবার মেনে না নেওয়ায় মেয়েটি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এছাড়া নিহত কিশোরী অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং এই ঘটনায় তাঁর পরিবার চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছে।
বুধবার রাতে মামলার প্রধান আসামি হৃদয় হাসান প্রকাশ বাবুকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সকালে রোকেয়া (২৫) বেগম নামের এক নারী সহযোগীকেও আটক করা হয়। মামলার অন্য আসামি মোঃ নায়েম (২০) ও সাজেদা বেগমকে (২৪) ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে পরিবার এই ঘটনাকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে আপাতত ভিন্ন প্রেক্ষাপটের কথা জানানো হয়েছে। তারা উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন প্রভাবশালী মহলের চাপে এই জঘন্য ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা না হয়।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুবাগতিন মাহমুদ সোহেল (আরএমও) জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ (ধর্ষণ না কি আত্মহত্যা) নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো।


