মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাস্তে মার্কার প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেছেন, ‘আমরা প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার আইনগত অধিকার নিশ্চিত করব। আমাদের কাস্তে মার্কার প্রার্থীরা এই অঙ্গীকার নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।’
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ফকিরাপুলে ঢাকা-৮ আসনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট মনোনীত সিপিবির কাস্তে মার্কার প্রার্থী ত্রিদ্বীপ সাহার নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, এই সরকার ‘কানে দিয়েছে তুলো, পিঠে দিয়েছে কুলো’। তারা জনগণের কোনো কথা শুনছে না। এই নির্বাচনের সময়ও চট্টগ্রাম বন্দর লিজ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। ভয়ের রাজত্ব, মব সন্ত্রাস দূর করতে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
নির্বাচনে টাকার খেলা, পেশিশক্তির দাপট আর সাম্প্রদায়িক শক্তির ধর্মের ব্যবহার বন্ধে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এই অবস্থা জনমনে নির্বাচনে নানা ধরনের প্রশাসনিক কারসাজির আলোচনা সামনে চলে আসছে।
সিপিবি নেতা প্রিন্স বলেন, অপ্রয়োজনীয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর প্রচার নিয়ে সরকার যে পরিস্থিতি করছে, তা জনমনে আরেক উদ্বেগ তৈরি করছে। জুলাই সনদে বর্ণিত ৪৮ বিষয়, ভূমিকা পটভূমি, বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামায় যা লেখা হয়েছে, তা দেশের সাধারণ মানুষ জানে না।
এ বিষয় নিয়ে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, তার আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি অপ্রয়োজনীয় গণভোট বন্ধ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যথাযথ ভূমিকা পালন করার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, রাজনৈতিক ডামাডোলে জনস্বার্থের কথা বাদ দিয়ে অনেক রাজনৈতিক দল শুধু ক্ষমতার খেলায় মেতে উঠেছে। আমরা বামপন্থীরা ব্যবস্থা বদলে সংগ্রাম অগ্রসর করতে মাঠে আছি। আসন্ন নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীরা বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশ ও মানুষের স্বার্থে ব্যবস্থা বদলের কাজটি সম্পন্ন করব।
তিনি বলেন, এখনো নির্বাচনের পরিবেশ যথাযথ হয়নি। পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেনি। ভয়ের রাজত্ব অব্যাহত আছে। সবার জন্য সময় সুযোগ নিশ্চিত করতে এ অবস্থার অবসান করতে হবে।
সিপিবির প্রার্থী ত্রিদ্বীপ সাহা বলেন, এমপির নামে জমিদারিত্ব করার জন্য আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি না। জনস্বার্থে আইন প্রণয়ন করাসহ মানুষ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় অর্থনীতিকে সচল করা এবং সব মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে যথাসাধ্য ভূমিকা পালন করার জন্য আমরা নির্বাচিত হতে চাই।
গণসংযোগে আরো অংশ নেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাকসুর সাবেক ভিপি রাগীব আহসান মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য হযরত আলী, যুবনেতা রফিজুল ইসলাম প্রমূখ।


