কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: রমজানের মাত্র ১৫ দিন চললেও চট্টগ্রামের রেমিট্যান্স সমৃদ্ধশালী উপজেলা হিসবে পরিচিত রাঙ্গুনিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে বইছে আগাম ঈদের হাওয়া। রোয়াজারহাট ও দোভাষীবাজার,রানিরহাট রাজারহাট,সরফভাটা ক্ষেত্রবাজারসহ উপজেলার ছোট-বড় বাজারগুলোতে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
ব্যবসায়ীরা জানান, এবার বিদেশি পোশাকের চেয়ে দেশীয় সুতি ও লিনেন কাপড়ের থ্রি-পিস এবং ডিজাইনার ড্রেসের চাহিদা তুঙ্গে। নারীদের পছন্দে রয়েছে বাহারি সিল্ক, কাতান এবং বুটিকসের কাজ করা কামিজ। পুরুষদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সুতি পাঞ্জাবি ও পায়জামা (৮০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত)।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির একটি পরোক্ষ ছায়া এবারের ঈদবাজারে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাঙ্গুনিয়ারর প্রাণকেন্দ্র কন্দ্র রানিরহাট জামাল মার্কেট, লালমিয়া মার্কেট, রোয়াজারহাটের গাউসিয়া মার্কেট, ডিআর আয়েশা, রুবেল সুপার মার্কেট এবং লিচুবাগান, দোভাষী-বাজার, পোমরা শান্তিরহাট, গোচরা চৌমুহনী, ধামাইরহাট ও মোগলেরহাটের শপিং মলগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বিশেষ করে মরিয়মনগর, ক্ষেত্রবাজার, শিলক বাজার ও পদুয়া রাজারহাটের মার্কেটগুলোতে প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি দর্জিবাড়িগুলোতেও কারিগরদের নাওয়া-খাওয়ার ফুসরত নেই, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ভরসা হয়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান ও ফুটপাত, যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে মিলছে শিশুদের পোশাক।
রাঙ্গুনিয়া মূলত একটি প্রবাসী-বহুল এলাকা। বর্তমানে ওমান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উপজেলার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ কর্মরত। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় অর্থনীতিতে কয়েকটি নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাপে পড়েছে। এতে অনেক প্রবাসীর বেতন অনিয়মিত হওয়া বা কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অনিশ্চয়তার কারণে অনেক পরিবার এবার বিলাসিতা কমিয়ে মিতব্যয়ী হওয়ার চেষ্টা করছে।
লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক রুটে জাহাজ ভাড়া ও বিমা খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে কসমেটিকস, পারফিউম ও নামী ব্র্যান্ডের জুতোর দাম গত বছরের চেয়ে ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় (প্রতি আউন্স ৫,০০০ ডলার ছাড়ানো) পৌঁছানোয় গয়নার বাজারে মন্দা দেখা দিয়েছে। এছাড়া জ্বালানি সংকটে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কায় জেনারেটর খরচ বাড়লে পণ্যের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রোয়াজারহাট ও দোভাষী বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত ১৫ রোজার পর ভিড় বাড়ে, কিন্তু এবার মানুষ আগেভাগেই বাজারে আসছে। তবে গত বছরের তুলনায় কাপড়ের দাম কিছুটা চড়া বলে অভিযোগ করেছেন কেন-কোটা করতে আসা গৃহিণীরা।
মোড়গুলোতে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী-জোরদার করা হয়েছে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, ঈদবাজারে জাল টাকার বিস্তার রোধ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকি প্রয়োজন।
যুদ্ধের কালো মেঘ আর মূল্যস্ফীতির শঙ্কা সত্ত্বেও ধর্মীয় আবেগ ও উৎসবের টানে রাঙ্গুনিয়ার ঈদবাজার এখন উৎসবমুখর। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে ঈদের আনন্দ আরও পূর্ণতা পাবে।


