সপ্তাহে তিন দিন অকটেন-পেট্রল ও তিন দিন ডিজেল সরবরাহ চালু থাকার পরও রাঙ্গামাটিতে জ্বালানি তেলের সংকট কাটছে না। বরং দিন দিন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তেল সরবরাহের নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা হলেও আগের দিন রাত থেকেই বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন চালকদের।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল থেকে শহরের চারটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তিনটিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু সীমিত সরবরাহ ও অনিয়ন্ত্রিত বিতরণ ব্যবস্থার কারণে চাহিদার তুলনায় তেল পাওয়া যাচ্ছে খুবই কম। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা চালু না থাকায় অনেকেই সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত তেল মজুদ করছেন। একই ব্যক্তি বা যানবাহন একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে কিংবা বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকৃত প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না।
মোটরসাইকেল চালক প্রিয়ম আইচ বলেন, আমরা চাকরি করি, সকাল থেকে আমাদের অফিস থাকে। কিন্তু আমাদের পক্ষে অফিস টাইমে ৩-৪ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেয়া সম্ভব নয়। ফুয়েল কার্ড না থাকাতে একজন চালক একাধিক বার তেল নিচ্ছে, অথচ যাদের প্রয়োজন তারা পাচ্ছে না।
আরেক চালক জুনান চাকমা বলেন, দেশের অনেকগুলা জেলাতে ফুয়েল কার্ড চালু হওয়ায় তেল বিতরণে শৃঙ্খলা এসেছে। কিন্তু রাঙ্গামাটিতে এই ধরনের কোন উদ্যেগ না থাকায় তেল বিতরণে অনিয়ম হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত জবাবদিহি জোরদার করা।
মেসার্স এস এন পেট্রোলিয়াম এজেন্সির ব্যবস্থাপক মো. ইদ্রিস বলেন, আমরা যে জ্বালানি পাচ্ছি সেটা আমরা প্রশাসনের তদারকিতে বিতরণ করছি। কিন্তু যারা তেল নিচ্ছেন তাদের কোন রেকর্ড না থাকাতে অনেকেই অতিরিক্ত তেল নিচ্ছেন। ফুয়েল কার্ড চালু করা গেলে এই সমস্যা নিরসন করা যাবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন বলেন, কিছু জেলা ফুয়েল কার্ড চালু করেছে সেটা সত্যি, তবে ফুয়েল কার্ড দিয়েও জ্বালানি বিতরণে পুরোপুরি শৃঙ্খলা আসেনি। সমতলের জেলাগুলোর থেকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। এখানে শুধু সড়ক পথ নয়, অনেকগুলো নৌ-পথও রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করে। তাই রাঙ্গামাটির জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অন্যান্য কিছুর চিন্তাভাবনা করছি আমরা।


