শফিউল আলম, রাউজান: রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব আইলিখিল (খামার টিলা) একটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত জনপদ হিসেবে পরিচিত। টিলাভূমি ও কয়েকটি ইটভাটার মাঝখানে অবস্থিত এই গ্রামে প্রায় ৭০টি পরিবারের ৫ শতাধিক মানুষের বসবাস। জনসংখ্যার ঘনত্ব ও জন্মহার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও এলাকাটি এখনো মৌলিক উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত।এ গ্রামের ধর্মীয় জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হযরত গফুর আলী বোস্তামী শাহ (রহঃ) আস্তানা মসজিদ। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ২ হাজার ফুট দীর্ঘ খারাপ ও ক্ষতবিক্ষত সড়কপথ পায়ে হেঁটে প্রতিদিন মসজিদে যেতে হয় মুসল্লীদের। প্রবেশপথে বাঁশের সাঁকো ও তক্তার অস্থায়ী কালভার্ট দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয়।
মসজিদের ভেতরে নেই অজুখানা কিংবা শৌচাগারের কোনো ব্যবস্থা। বটবৃক্ষের ছায়াঘেরা মনোরম পরিবেশ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন তৈয়বী জানান, বর্ষাকালে কাদামাটির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয় এবং পানির স্রোতে বাঁশের সাঁকো ও কালভার্ট ডুবে গেলে কোমর পানি ভেঙে মসজিদে যেতে হয়। তিনি সড়ক সংস্কার ও একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের জন্য পৌরসভায় লিখিত আবেদন করেছেন বলেও জানান, তবে এখনো কোনো সাড়া পাননি।মসজিদের উপদেষ্টা বাহার সওদাগর, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, পারভেজ, সেলিম উদ্দিন, এমদাদ হোসেন, মহরম আলী, জসিম উদ্দিন ও মনির উদ্দিন বলেন, “দুই যুগ ধরে আমরা একটি সড়কের জন্য সংগ্রাম করছি। কাগজে কলমে আমরা পৌরসভার বাসিন্দা হলেও বাস্তবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত।”তারা বর্তমান সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সড়ক সংস্কার ও মসজিদের সামনে স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে রাউজান পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা বলেন, পূর্ব আইলিখিল খামার টিলা মসজিদ সড়ক সংস্কারের একটি আবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বাজেট ঘোষণার পর আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন বরাদ্দের মাধ্যমে সড়কটির কাজ করা হবে বলে তিনি জানান।


