শফিউল আলম, রাউজান: মসলা জাতীয় ফসলের মধ্যে আদা হচ্ছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ফসল। যেকোন রান্নার সরঞ্জামে আদার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই আদার ও চাহিদা থাকে অনেক বেশি। সাধারনত পার্বত্য অঞ্চলে স্থানীয় এবং থাই এই দুই জাতের আদা চাষ করা হয়ে থাকে। তবে থাই জাতের আদা আকারে বড় হয়ে থাকে। মূলত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে জমিতে আদা লাগানো হয়। পৌষ মাসে পাতা শুকাতে শুরু করলে আদা তোলা শুরু হয়। আদা চাষে ঝুঁকি কম কিন্তু লাভ বেশি। পতিত জমিতেও চাষ করা যায়। বিশেষ করে যেখানে কোনো ফসল ফলানো যায় না সেখানে আদার চাষ করা যায় নিশ্চিন্তে। আদার তেমন কোনো রোগবালাই বা পোকা-মাকড়ও দেখা যায় না।
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাউখালী, বাঘাইছড়ি,মনিকছড়ি, মরিস্যা, বিলাই ছড়ি, রাজস্থলী, কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ী অঞ্চল ও রাউজান উপজেলা পাহাড়ী এলাকা হলদিয়া ইউনিয়নের বানারস, বৃন্দ্বাবনপুর, বৃকবানপুর, ওয়াহেদ্যা খীল, শীরনী বটতল, জনিপাথর, গলাচিপা, উত্তর আইলী খীল, সিংহরিয়া, রাউজান পৌরসভার চিকনছড়া, মুখছড়ি, ভোমর ঢালা, জঙ্গল রাউজান রাউজান ইউনিয়নের শমশের নগর, রানী পাড়া পুর্ব রাউজান, কদলপুর কারকাতর পাড়া, শমশের পাড়া, পাহাড়তলী ইউনিয়নের সন্দীপ পাড়া, নাজিরের টিলা, জগৎপুর আশ্রম, বহলপুর, মহামুনি পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে আদা উৎপাদন হয়। রাউজানের বিভিন্ন হাট বাজারে মুদির দোকানে পাহড়ে উৎপাদিত আদা বিক্রয় করতে দেখা যায় । যেই আদাগুলোর মান ভালো ও দামে কিছুটা সস্তা হওয়ায় স্থানীয় বাজার চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে করে স্থানীয় চাষীরাও বেশ লাভবান হচ্ছে। গত এক মাস আগে প্রতি কেজি আদা ১শত টাকা থেকে ১শত ১০ টাকা করে বিক্রয় করা হলে ও কুরবানি উপলক্ষে আদার দাম বেড়ে প্রতি কেজি আদা ১শত ৫০ টাকা থেকে ২শত টাকা করে বিক্রয় করছে । কুরবানীর সময়ে কুরবানীর মাংস রান্না করতে পাহাড়ে উৎপাদিত আদাল কদর বেড়েছে ।
রাউজানের পাহাড়ী এলাকা হলদিয়া ইউনিয়নের বৃকবানপুর এলাকার কৃষক অনুমং মারমা, তঞ্চজ্ঞা মারমা বলেন , প্রতিবছরই তারা আদা চাষ করে থাকেন। তাছাড়া পাহাড়ে আদা চাষে ভালো ফলন পাওয়াতে এবং লাভবান হয় বেশী। পাহাড়ে আদাচাষ লাভজনক হওয়ায় চাষীরাও আদাচাষ করছে বেশী। আদা চাষে পাহাড়ের মাটি উপযুক্ত হওয়ায় এবং পরিবেশ আবহাওয়া সহনশীল হওয়াতে কমবেশি সকলেই লাভবান হয়ে থাকে। তারা অনেকেই বলেন, আদা চাষ করে তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। এছাড়া কৃষি বিভাগ থেকেও তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করা হয়ে থাকে।
রাউজান ফকির হাট বাজার্রে আদা বিক্রয় করতে আসা স্থানীয়চাষী স্বপ্না মারমা, চাউচিং মারমা সহ কয়েকজন বলেন, পাহাড়ের এসব আদার কদর ভালো হওয়াতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাইকারী ভাবে বিক্রয় করা হয়ে থাকে। মুসলিম সম্প্রদায়ের কুরবানী উপলক্ষে আদা বিক্রয় হচ্ছে বেশী ।
রাউজান উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুম কবির জানান, আদা একটি উচ্চমূল্যের ফসল। পাবর্ত্য জেলা ছাড়া ও রাউজানের পাহাড়ী এলাকায় পাহাড়ে ও সমতল ভুমিতে আদা ক্ষেতের চাষাবাদ করছে কৃষকরা । পাহাড়ের স্থানীয় উন্নত জাতের আদার ফলন অনেকটা বেশি এবং সারাদেশে এই জাতের আদার বীজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে স্থানীয়দের কৃষকদের আদাচাষে বিভিন্ন সহযোগীতা করা হয়। তাই আদা চাষ করে ।
হাড়ের প্রান্তিক কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে।


