ভারতের স্বাধীনতার পর এই প্রথম দেশটি সৌদি আরবে তাদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে একজন অমুসলিম কূটনীতিককে নিয়োগ দিয়েছে। এর মাধ্যমে বহুদিনের একটি অলিখিত প্রথার অবসান ঘটল, যা নয়াদিল্লির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি কূটনৈতিক পদে ধর্মীয় ও কূটনৈতিক গুরুত্বের কারণে অনুসরণ করা হতো। খবর গালফ নিউজের।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অভিজ্ঞ কূটনীতিক বিপুল, যিনি ১৯৯৮ ব্যাচের ভারতীয় ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা এবং বর্তমানে কাতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি সৌদি আরবে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হবেন।
তিনি ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ভারতের কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি নয়াদিল্লিতে যুগ্ম সচিব (গালফ) হিসেবে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তত্ত্বাবধান করেন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কাতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত আছেন।
কূটনৈতিক এই পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনি শিগগিরই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই নিয়োগকে কয়েক দশক ধরে চলে আসা রীতির ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগে ভারত সাধারণত সৌদি আরবে মুসলিম কূটনীতিকদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিত এবং জেদ্দায় মুসলিম কনসাল জেনারেল নিয়োগ করত। এই প্রথা মূলত ভারতের বার্ষিক হজ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, কারণ এসব মিশন প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয় মুসলমানের হজযাত্রা সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
এই পরিবর্তন ভারত-সৌদি সম্পর্কের বিবর্তনেরও প্রতিফলন। একসময় যেখানে সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল হজ ও তেল, এখন তা বিস্তৃত হয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
বিপুলের এই পদে নিয়োগের পেছনে রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। প্রায় তিন দশকের কূটনৈতিক জীবনে তিনি কায়রো, কলম্বো, জেনেভা ও দুবাইয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক বিষয়, বাণিজ্যিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি কাজ করেছেন।
অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি দিল্লিতে প্রশিক্ষিত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং ইন্ডিয়ান স্কুল অব বিজনেস থেকে এমবিএ ডিগ্রিধারী। তিনি শিগগিরই সৌদি আরবে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


