মিরসরাই প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (এনআইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর সোনাপাহাড় এলাকার ভোলা সওদাগর বাড়ির মীর হোসেনের ঘরের সদর দরজার সামনে থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির সামনে পড়ে থাকা একটি কালো পলিথিনের প্যাকেট দেখে সন্দেহ হয় মীর হোসেনের। কাছে গিয়ে কান্নার শব্দ শুনে প্যাকেটটি খুললে ভেতরে সদ্যজাত একটি কন্যাশিশুকে দেখতে পান তিনি। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে বারইয়ারহাট সেফা ইনসান হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, জন্মের পরপরই অজ্ঞাত কেউ শিশুটিকে সেখানে ফেলে রেখে যায়। তবে নবজাতকের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
এ বিষয়ে মীর হোসেন বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে বাড়ির সদর দরজার সামনে একটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পাই। কাছে গিয়ে কান্নার শব্দ শুনে প্যাকেট খুলে দেখি একটি নবজাতক শিশু। পরে প্রতিবেশীদের জানাই। স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
বারইয়ারহাট সেফা ইনসান হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এস. এ. ফারুক বলেন, ‘সকাল ১১টার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। নবজাতকটির ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। তার শারীরিক অবস্থাও দুর্বল ছিল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর অবস্থার উন্নতি হয়। উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। খবর পাওয়ার পর রাতেই হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির খোঁজখবর নিই।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে তার উন্নত চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির সার্বিক বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন নজর রাখছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’


