প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ এবং প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি কম্পিউটার ক্লাবের উদ্যোগে ‘অ্যানালিটিক্যাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সাকসেস স্টোরিজ অব বাংলাদেশি স্টুডেন্টস ইন সিএসই এডুকেশন’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২১ জুন (রবিবার), বেলা ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারি লেইনস্থ ভবনে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস-এর ফেলো এবং বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. আতাউর কাতেবি ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল অনুষদের সহযোগী ডিন প্রফেসর ড. সাহীদ মো. আসিফ ইকবাল।
সেমিনারে প্রধান বক্তা ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষার বর্তমান অবস্থা, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতায় শুধু প্রোগ্রামিং ভাষা শেখাই যথেষ্ট নয়; বরং সমস্যা বিশ্লেষণ, যৌক্তিক চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার সক্ষমতাই একজন শিক্ষার্থীকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, গবেষণা এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং শেখার প্রতি অদম্য আগ্রহ। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল জগতে টিকে থাকতে হলে প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স এবং সফটওয়্যার উদ্ভাবনের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির বলেন, বর্তমান যুগে উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন মানবসম্পদ তৈরি করা, যারা কেবল চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। তিনি বলেন, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদের মতো একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. আতাউর কাতেবি অ্যানালিটিক্যাল থিংকিং-এর প্রসেস সম্পর্কে বলেন এবং মানবকল্যাণে তা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে-সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. সাহীদ মো. আসিফ ইকবাল বলেন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা এবং আজীবন শেখার মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা প্রধান বক্তার সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রযুক্তি শিক্ষা, গবেষণা ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। এছাড়াও প্রধান বক্তার প্রদত্ত বাস্তবধর্মী কিছু সমস্যা তারা সমাধান করে দেখান।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সিএসই বিভাগের প্রশাসনিক কো-অর্ডিনেটর জনাব কিংশুক ধর, এমএসসি প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জনাব মোহাম্মদ হাসান, একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর জনাব মোহাম্মদ রেজাউর রহমান চৌধুরী, কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস কো-অর্ডিনেটর জনাব মো. হাসান ও অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ। বিভাগের শিক্ষার্থীরাও সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।


