চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ও খ্যাতিমান আইনজীবী ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনকে আজীবন সদস্য পদ দিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। আজ ৩০ মার্চ বুধবার দুপুরে জামালখানস্থ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ভবনে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে)’র স্থায়ী কার্যালয়ে সিইউজের সভাপতি তপন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে যুগ্ম সম্পাদক সাইদুল ইসলামের সঞ্চলনায় ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনকে সংগঠনের আজীবন সদস্য পদ প্রদান উপলক্ষে এক সম্বর্ধনা দেয়া হয় । এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক দেব দুলাল ভৌমিক ও সহ সভাপতি মঞ্জুরুল কাদের মঞ্জু, সিইউজের সিনিয়র সহ-সভাপতি রুবেল খাঁন, সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম সহ অন্যান্যরা। সভায় বক্তারা বলেন, “চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পুরোধা ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে আমরা দেখেছি একজন মানবিক মানুষ হিসেবে। তিনি অত্যম্ত সাংবাদিক বান্ধব। চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের কল্যাণে তাঁর ভূমিকা ভুলবার নয়। ৮০ ও ৯০ এর দশকে সাংবাদিকদের অনেক পেশাজীবী আন্দোলনে তিনি পাশে ছিলেন । ছাত্র নেতা ও তরুণ রাজনীতিক হিসেবে। সভায় ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেন,” আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে আমি সব সময়ই সাংবাদিকদের পেশাগত আন্দোলনের পাশে ছিলাম । আগামীতেও আপনাদের পাশে থাকবো“ । অতীতে রাজনৈতিক অংগনে তাঁর বিশাল অবস্থানকে পেছনে ফেলে এক সময় বিলেতে গিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করে একজন সফল আইনজীবী হিসেবে আন্তর্জাতিক সুনাম অর্জন করেও বর্তমান দেশের জটিল ও কুটিল রাজনীতিতে তাঁর বিচরণ প্রসংগে বলেন, “বিলেতে গিয়েও মানবাধিকার আর মানুষের সেবার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে কাজ করে গেছি। কোন পদ পদবীতে না থেকে আওয়ামী লীগের সাথে গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে সম্পৃক্ত থেকেছি এবং চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা আবারো প্রকট আকার ধারণ করায় গত ২০১৫ সাল থেকে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠন করে এ সমস্যার সমাধান ও পরিকল্পিত চট্টগ্রামের উন্নয়নে সোচ্চার থেকেছি। কাজেই দেশ থেকে কখনও বিচ্ছিন্ন হইনি ।অনেক সময় ধরে বিলেতে বসবাস করে আর অনেক আয়কর দেয়ার পর একটি অধিকার হিসেবে দ্বৈত নাগরিকত্ব পেলেও বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য কমেনি।এটি বৃটেনে বা বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোন বাঁধা নয়, একমাত্র বাংলাদেশে এমপি হএয়ার জন্য এটি ত্যাগ করতে হয়” । তিনি আরো বলেন, “উচ্চ শিক্ষিত তরুণ সমাজ রাজনীতি নিয়ে মোটেই উৎসাহী নয়। বিশাল একটি অংশ বিদেশে স্থায়ী হওয়ার জন্য চলে গেছে বা যাচ্ছেন।আমি এদেরকে দেশের প্রতি মোটিভেইট করতে চাই । আমাদের দেশের প্রতিভাগুলি যেন দেশে ফিরে আসেন সেই জন্য উৎসাহিত করতে চাই এবং চেষ্টা করবো বিদেশ থেকে যেন আমাদের প্রতিভা গুলো ফিরে এসে অর্থনৈতিক -সামাজিক -রাজনৈতিক কাজে অংশ নেয়ার পরিবেশ করতে পারি । আর তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন হবে এটা নিশ্চিত করা না গেলে আমরা এই বিশাল তরুণ সমাজকে হারাবো এবং এতে আমাদের দেশের খুব ক্ষতি হবে । সৎ, ত্যাগী, উচ্চ শিক্ষিত ও যোগ্যদের প্রতি সমাজ ও রাজনীতিতে সুপ্রতিষ্ঠিতরা ঈর্ষান্বিত না হয়ে বরং তাদেরকে এগিয়ে আসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এভাবে নতুন প্রজন্মকে রাজনীতির প্রতি আকর্ষিত করা সম্ভব হবে‘‘।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের আজীবন সদস্যপদ প্রদান উপলক্ষে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন সম্বর্ধিত
সংবাদটি শেয়ার করুন
একটি মন্তব্য করুন
একটি মন্তব্য করুন


