যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ মে) ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন বসানোর জন্য ব্যবহৃত নৌকায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নৌকা সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার চেষ্টা করছিল, তাই নিজেদের সেনাদের ‘নিরাপত্তার জন্য’ এই হামলা চালানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। এর আগেই ইরানের গণমাধ্যম দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের খবর জানায়।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দোহায় থাকাকালীন এই হামলাগুলো চালানো হয় বলে সোমবার সফর সম্পর্কে অবহিত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন যে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এর অর্থ এই নয় যে একটি চুক্তি ‘আসন্ন’। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ‘অন্য ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে প্রণালিটি স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকুক। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বড় ধরনের আলোচনা হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও হামলা হতে পারে। তার ভাষায়, ‘হয় ভালো চুক্তি হবে, না হলে কোনো চুক্তিই হবে না।’
ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার একটি চুক্তিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হবে।
এর কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড নতুন হামলার তথ্য প্রকাশ করে। তারা জানায়, ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা দাবি করেছে, তারা একটি ‘শত্রু স্টেলথ ড্রোন’ ভূপাতিত করেছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, নতুন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে ড্রোনটি গুলি করে নামানো হয়েছে। তবে ড্রোনটি কোন দেশের ছিল, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, লেবাননে হামলা আরও জোরদার করা হবে। সোমবার এই ঘোষণার পরই লেবাননের বেকা উপত্যকাসহ কয়েকটি এলাকায় হিজবুল্লাহর স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকা এলাকা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলা তীব্রতর হওয়ায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩,১৮৫ জন নিহত এবং ৯,৬৩৩ জন আহত হয়েছেন।


