বিএনপি: সরকার পতনের একদফা দাবিতে আগামী ১৮ই ডিসেম্বর সোমবার হরতাল ডেকেছে বিএনপি। সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারাদেশে সর্বাত্মকভাবে হরতাল কর্মসূচি পালিত হবে। আজ সন্ধ্যায় ভার্চ্যুয়ালি এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
জামায়াত: সারাদেশে পুলিশের হামলা, গ্রেপ্তার, জুলুম-নির্যাতন ও একদলীয় নির্বাচনের প্রতিবাদে আগামী সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াত। শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম।
এটিএম মা’ছুম বলেন, সরকারের একদলীয় নির্বাচন, সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা, জামায়াতের নিবন্ধন সংক্রান্ত মামলায় ন্যায়ভ্রষ্ট আদেশ, নিম্ন আদালতে বিচারের নামে প্রহসন, ফরমায়েসি একতরফা তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে, সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন, দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ সকল রাজবন্দি ও নেতাকর্মীদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার দাবিতে আমি জামায়াতের পক্ষ থেকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করছি।
অপর এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ পূর্বপরিকল্পিতভাবে একজোট হয়ে রাজধানী ঢাকার মিরপুরে ছাত্রশিবিরের শান্তিপূর্ণ বিজয় র্যালিতে ন্যক্কারজনকভাবে হামলা চালিয়েছে এবং পুলিশ ১১ জন নেতাকর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করেছে। এই হামলার মাধ্যমে পুলিশ দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে এবং বিজয় দিবসের মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। পুলিশের এই ঘৃণ্য আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। আমরা এর ধিক্কার জানাই।
এলডিপি: আগামী ১৮ই ডিসেম্বর সোমবার দেশব্যাপী সর্বাত্মক হরতাল কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। শনিবার রাজধানীর মগবাজারের এলডিপি কার্যালয়ে বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় শান্তিপূর্ণভাবে এই হরতাল কর্মসূচি পালন করার জন্য এলডিপির নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
গণতন্ত্র মঞ্চ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে রোববার বিক্ষোভ এবং একদফা দাবিতে আগামী সোমবার সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ।
শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দপ্তরে গণতন্ত্র মঞ্চের এক জরুরি সভায় এসব কর্মসূচি ঘোষণা হয় বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
সভায় রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে’ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি একদফা দাবিতে চলমান যুগপৎ আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসাবে আগামী সোমবার সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দরা বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সভা-সমাবেশ করার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সেটা অসাংবিধানিক ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত। এই নির্দেশনা জারি জনগণ মানবে না। গণতন্ত্র মঞ্চ জনগণের সাংবিধানিক অধিকারে এই নতুন করে আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলন করে যাবে।
গণতন্ত্র মঞ্চের বর্তমান সমন্বয়ক ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমম্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের রাজনৈতিক সমন্বয়ক ফরিদুল হক, সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন, প্রচার ও মিডিয়া সমন্বয়ক সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন মোস্তাক প্রমুখ।


