মির্জা ইমতিয়াজ শাওন: চট্টগ্রামে গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জেঁকে বসেছে প্রচণ্ড শীত। ভোর ও রাতের দিকে কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশায় নগর ও উপজেলার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের পাশাপাশি খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
শীতের কারণে সকালে কাজে বের হতে ভোগান্তিতে পড়ছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও ভ্যানচালকরা। নগরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, শীত নিবারণের জন্য ফুটপাতে কিংবা খোলা জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করছেন শ্রমজীবী মানুষ।
চকবাজার এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক আবদুল মালেক বলেন,
“ভোরে রিকশা নিয়ে বের হওয়া খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে। ঠিকমতো গরম কাপড়ও নেই।”
হাটহাজারী এলাকার গৃহবধূ ইয়াসমিন বলেন,
“বাচ্চাদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় আছি। ঠান্ডায় সর্দি-কাশি লেগেই আছে। রাতে ঘুমাতে কষ্ট হয়।”
পতেঙ্গা এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মো. হোসেন জানান,
“এবার শীতটা হঠাৎ করেই বেশি পড়ছে। বয়সের কারণে ঠান্ডা সহ্য করতে পারছি না। শীতজনিত অসুস্থতা বাড়ছে।”
স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। তারা শিশু ও বয়স্কদের উষ্ণ রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া ভোর ও গভীর রাতে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। ফলে শীতের প্রকোপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতি শীতবস্ত্র বিতরণের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারী) চট্টগ্রাম শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১৩ দশমিক ০২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ দশমিক ০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


