শফিউল আলম, রাউজান: চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফতেহ নগর, পশ্চিম নদীম পুর পাশে ফটিকছড়ি উপজেলার নিচিন্তা পুর, তেলপারই, জাফত নগর এই দুই উপজেলার অপর পাশে হাটহাজারী উপজেলার লাঙ্গলমোড়া, ছিপাতলী, তিন উপজেলার সীমনায় খরশ্রোতা হালদা নদী।
হালদা নদীর উপর কোন সেতু না থাকায় হালদা নদীর উপর বাশের সাঁকা দিয়ে প্রতিদিন তিন উপজেলার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। হালদা নদীতে গাছ ও বাঁশের খুটি দিয়ে তৈয়ারী করা বাঁশের সাঁকোটি ৬ ফুট প্রশস্ত করে বাশের উপর বাশ দিয়ে তৈয়ারী করা সাঁকো দিয়ে তিন উপজেলার বাসিন্দারা পায়ে হেটে পার হয়। স্কুল কলেজ মার্দ্রসার শিক্ষার্থীরা এই সাকোঁ দিয়ে পায়ে হেটে পার হয়ে প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসা করেন। বাঁশের তৈয়ারী এই সাঁকো দিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, মোটর সাইকেল চলাচল করে। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে প্রতিজনকে দশ টাকা করে দিতে হয় ইজারাদারকে। প্রতিটি সিএনজি অটোরিক্সা ও মোটর সাইকেল পার হতে দিতে হয় ২০ টাকা।
শুস্ক মৌসুমে বাশের তৈয়ারী সাঁকো দিয়ে তিন উপজেলার হাজার মানুষ ও শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। বর্ষার মৌসুমে পাহাড়ী ঢলের শ্রোত নেমে আসলে বাশের তৈয়ারী সাঁকো পাহাড়ী ঢলের শ্রোতে নিয়ে যায়। বর্ষার মৌসুমে খরস্রোতা হালদা নদী নৌকা দিয়ে তিন উপজেলার মানুষ ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। রাউজান ফটিকছড়ি হাটহাজারী তিন উপজেলার হাজার মানুষ যুগ যুগ ধরে এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও হালদা নদীতে কোন সেতু নির্মাণ করা হয়নি। গত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে রাউজানের পশ্চিম ফতেহ নগর ও লাঙ্গলমোড়া এলাকার মাঝখানে হালদা নদীতে সেতু নির্মাণ করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে কয়েক দপে প্রকৌশলী এসে সরেজমিনে পরিদর্শন করে যায়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর পরিদর্শন করে গেলে ও সেতু নির্মাণ করা হয়নি। রাউজানের নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফতেহ নগর এলাকার বাসিন্দা মাওলানা নুর হোসেন ফারুকী বলেন, ছোট কাল থেকে হালদা নদী বর্ষার মৌসুমে নৌকা, শুস্ক মৌসুমে বাশের তৈয়ারী সাঁকো দিয়ে পার হয়ে আসছি। প্রতিদিন এলাকার শত শত মানুষ ও স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা হালদা নদীর শুস্ক মৌসুমে বাশের সাকো বর্ষার মৌসুমে নৌকা দিয়ে পার হয়ে চলাচল করছে। তিন উপজেলার মানুষের চলাচলের জন্য হালদা নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে রাউজান হাটহাজারী ফটিকছড়ি হাজার হাজার মানুষের চরর দুর্ভোগ লাঘব হবে। তিন উপজেলার মানুষের মধ্যে সেতুবন্দন হবে। পশ্চিম ফতেহ নগর এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ দিদারুল আলম বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা কয়েক দফে পরির্দশন করার পর হালদায় নতুন সেতু হবে, হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করছিলাম। পরির্দশন করার পর ও কোন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় তিন উপজেলার মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছে। রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, রাউজানের পশ্চিম ফতেহ নগর, হাটহাজারীর লাঙ্গলমোড়া সীমান্তে হালদা নদীর উপর সেতু নির্মাণ জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অদিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক, প্রকৌশলী এসে পরিদর্শন করে সেতুর নির্মাণের জন্য নেওয়া প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। প্রকল্প এখনো মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।


