নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রিয় চট্টগ্রাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় থাকা মোশাররফ হোসেন দীপ্তি চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এক সুপরিচিত, পরীক্ষিত ও সংগ্রামী নাম। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে যুবদল এবং মহানগর বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন অগ্রসারির একজন সংগঠক।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে তাঁর পথচলা শুরু। পাহাড়তলী রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ছাত্রদল নেতৃত্বের হাতেখড়ি নিয়ে তিনি ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সভাপতি নির্বাচিত হন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—একটি কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সভাপতি পদে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, যা তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার স্পষ্ট প্রমাণ।
পরবর্তীতে তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতৃত্বে উঠে আসেন।
২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একইসাথে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি ৭ বার গ্রেপ্তার হন, বহন করেন ৩৯টি মামলা, এবং কারাবরণ করেন সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরের প্রায় সব থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ৬০টিরও বেশি মামলা হয় এবং একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়।
তবুও রাজপথ ছাড়েননি তিনি—বরং আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন দলের পক্ষে।
‘দেশ রক্ষা-তারেক মঞ্চ’: এক ঐক্যের প্রতীক
২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ এবং পরবর্তী সময়ের আন্দোলনে চট্টগ্রামে বিএনপির বিভক্ত নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “দেশ রক্ষা-তারেক মঞ্চ”—চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এ কে খান, অলংকার ও সিটি গেইটে। প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে তিনি সফলভাবে বিভিন্ন গ্রুপের নেতাকর্মীদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে আন্দোলনকে বেগবান করেন।
এই উদ্যোগ চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করে এবং তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা পায়।
বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন—
“মোশাররফ হোসেন দীপ্তির মতো পরীক্ষিত, ত্যাগী ও সংগঠক নেতাদের মূল্যায়ন করা এখন সময়ের দাবি।”
তাঁদের মতে, দীর্ঘ কারাভোগ, মামলা-হামলা এবং আপসহীন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীপ্তি প্রমাণ করেছেন তিনি কেবল পদধারী নেতা নন, বরং রাজপথের বাস্তব সৈনিক।
মোশাররফ হোসেন দীপ্তি এমন একজন নেতা, যিনি সুবিধাভোগী রাজনীতির নয়—বরং ত্যাগ, সংগ্রাম ও সংগঠনের রাজনীতির প্রতীক। ছাত্রদল থেকে যুবদল, মহানগর থেকে কেন্দ্র—প্রতিটি স্তরে তিনি রেখে গেছেন নেতৃত্বের স্বাক্ষর।
বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর মতো নেতাদের মূল্যায়ন শুধু ব্যক্তির সম্মান নয়, বরং দলের আদর্শিক শক্তিকেই আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।


