চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এই বিজয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং এই বিজয় বাংলাদেশের প্রতিটি আপামর জনসাধারণের। দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম নির্যাতন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ের যে রায় জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে দিয়েছে, তার জন্য আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শোকরানা আদায় করছি। আজ থেকে আমাদের কাজ হলো একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া। আমরা বিজয়ী হয়েছি মানে আমাদের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রামের পর আজকের এ বিজয়। চট্টগ্রামের উন্নয়ন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।
তিনি শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাদে জুমা জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করায় বিশেষ দোয়া ও শোকরানা মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করাই আমি সকলের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। মহান আল্লাহ পাকের নিকট শুকরিয়া জানাই, তিনি আমাকে জনগণের সেবা সুযোগ দিয়েছেন। জনগন আমার উপর যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি সে অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবো। জনগণের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূলমন্ত্র। আমাদের উপর জনগণের যে আস্থা ও ভালোবাসা রয়েছে, জনগণ তা ভোটের মাধ্যমে প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। দেশ ও জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখে তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিব, ইনশাআল্লাহ।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশজুড়ে কোনো ধরনের বিজয় মিছিল বা সভা সমাবেশ না করে কেবল প্রার্থনা ও শুকরানা আদায়ের মাধ্যমে এই বিজয় উদযাপন করা হয়।
দোয়া মাহফিলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতা কামনা করে দোয়া করা হয়। পাশাপাশি শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এছাড়া গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ হওয়া নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের খতিব মাওলানা আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলীয় নেতাকর্মী, ধর্ম, বর্ণনির্বিশেষে পাশে থাকার জন্য চট্টগ্রামের আপামর জনগণকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীকেও ধন্যবাদ জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, আহবায়ক কমিটির সদস্য মো, কামরুল ইসলাম আনোয়ার হোসেন লিপু, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মুসল্লী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদুর রহমান প্রমুখ।


