মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু,কাপ্তাই (রাঙামাটি): কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪র্থ শ্রেণির জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৪র্থ শ্রেণির মোট ১৭টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪ জন। ১৩টি পদ শূন্য রয়েছে, যা মোট পদের প্রায় ৭৬.৫০ শতাংশ।
পদভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে ৫টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১ জন, শূন্য রয়েছে ৪টি পদ। আয়া পদে ২টি পদের বিপরীতে কেউ কর্মরত নেই। ওয়ার্ডবয় পদে ৩টির মধ্যে ১ জন কর্মরত, শূন্য রয়েছে ২টি পদ। অফিস সহায়ক পদে ৫টির মধ্যে কর্মরত আছেন ১ জন, শূন্য রয়েছে ৪টি পদ। এছাড়া নিরাপত্তা প্রহরী পদে ২টির মধ্যে ১ জন কর্মরত রয়েছেন। এঅবস্থায় অল্প সংখ্যক কর্মচারী দিয়ে পুরো হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, হাসপাতালে CCTV ক্যামেরা নেই, বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সোলার সিস্টেমও নেই। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় পুরো হাসপাতাল অন্ধকার হয়ে পড়ে এবং সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়।
এছাড়া হাসপাতালে রোগীদের জন্য বেডও রয়েছে অপর্যাপ্ত। বর্তমানে আরও অন্তত ১০টি বেড প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল ও আবাসিক ভবনে ডিপ টিউবওয়েল না থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও রয়েছে। হাসপাতাল এলাকায় সোলার স্ট্রিট লাইটও নেই, যা রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
এবিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডা. রুইহলা অং মারামা বলেন, ৪র্থ শ্রেণির জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় আমাদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে রোগীদের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
এবিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, কাপ্তাই একটি দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকা। এখানে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। কিন্তু ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীর এমন সংকট থাকলে স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালের সেবা ব্যাহত হবে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা এবং হাসপাতালের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান করা জরুরি হয়ে পড়েছে।


