স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, এখন পর্যন্ত উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সরকার এবং মন্ত্রাণলয়ের সিদ্ধান্তে আমরা প্রশাসক যেগুলোতে দিয়েছি এবং যেগুলোতে ইউএনও ও এসি ল্যান্ড প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, আমরা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে দেব। সেই নির্বাচনে যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবে, তারাই এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিধিত্ব করবে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের শাহজাহানপুর ইউনিয়নে একটি ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো বাতিল করে দিয়েছে। সেই বাতিলের সাথে আরেকটি জিনিস বাতিল করেছে যা হলো বিগত ফ্যাসিস্ট সরকাররের আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে বা জাতীয় প্রতীকে হতো, এই প্রতীকটাও তারা বাতিল করে দিয়েছে। সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনের ব্যাপারে তারা অধ্যাদেশে মান্ডেটটি রেখেছে। প্রথম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের উপস্থাপিত হয়েছে এবং সেগুলোকে আইন আকারে পাস করার জন্য বিশেষ কমিটি কাজ করছে। এই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে উপজেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ অধ্যাদেশ রয়েছে। যেখানে জাতীয় প্রতীক ছাড়া সাধারণ প্রতীকে নির্বাচন হবে। এই পার্লামেন্টে মাননীয় সংসদ সদস্যরা যদি এটি আইন আকারে পাস করেন, তাহলে আইন মন্ত্রণালয় হয়ে আমাদের মন্ত্রাণলয়ে যাবে। তখন নির্বাচনের বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।
ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠেনি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করবে।
এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মুসাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর ব্রিজটির অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগর অতিরিক্ত সচিবকে ( উন্নয়ন অনুবিভাগ) আহ্বায়ক ও জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়ক অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।


