শফিউল আলম, রাউজান: চট্টগ্রামের রাউজানে শ্রী শ্রী কৈলাসেশ্বরী কালী মন্দিরে শ্রীমৎ তারাচরণ পরমহংসদেবের ১৪৭ তম শুভ আবির্ভাব তিথি ও বাসন্তীপূজা উদযাপন ১৪৩২ উপলক্ষে অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অষ্টপ্রহরব্যাপী তারকব্রক্ষ মহানামযজ্ঞ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল সাধুবাবার জীবনবেদ আলোচনা, ধর্মসভা, গুণীজন সম্মাননা প্রদান, শিক্ষা বৃত্তি প্রদান, নব গঠিত মন্দির পরিচালনা পরিষদের পরিচিতি, গীতিনাট্য শ্রীকৃষ্ণের নৌকা বিলাস,সংগীত, নৃত্য ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) উপজেলার পশ্চিম গুজরাস্থ শ্রী শ্রী কৈলাসেশ্বরী কালী মন্দির ও সাধুতারাচরণ সেবাশ্রমের উদ্যোগে শ্রী তারামঠ প্রাঙ্গণে পাঁচদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে শ্রীমৎ তারাচরণ পরমহংসদেবের ১৪৭ তম আবির্ভাব তিথি ও বাসন্তীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী পর্বে একাধিক ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।শ্রীমৎ তারাচরণ সাধুর ১৪৭ তম আবির্ভাব তিথি উদযাপন পরিষদের সভাপতি নেপাল করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতেয়াবাদ শ্রী শ্রী ব্রক্ষানন্দ যোগাশ্রমের অধ্যক্ষ, ইউ.এ.ই শ্রী শ্রী জ্যোতি-লোকনাথ সেবাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমৎ স্বামী বীরেশ্বরানন্দ গিরি মহারাজ।
সংবর্ধেয় অতিথি ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট চট্টগ্রামের সহকারী প্রকল্প পরিচালক শ্রী রিংকু কুমার শর্মা।মহান অতিথি ছিলেন অনুষ্ঠানে মহান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া ধলঘাট শ্রী শ্রী সাধুবাবা তারাচরণ সিদ্ধাশ্রমের সভাপতি শ্রী দিলীপ কুমার ভট্টাচার্য্য। ধর্মীয় বক্তা ছিলেন সনাতনী বাগ্মী অধ্যাপক শ্রী স্বদেশ চক্রবর্তী। অতিথি ছিলেন পরমেশ ধর ও দীপ্ত দাশের যৌথ সঞ্চালনায়স্বাগত বক্তব্য রাখেন ১৪৭তম আবির্ভাব তিথি ও বাসন্তীপূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ বনিক মিন্টু। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মন্দির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী মাখন বনিক, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী স্কাইল্যাব দে।অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র লাল বনিক, চন্দন বিশ্বাস, বাবুল কান্তি দাশ ডা. শ্রী বাদল কান্তি চৌধুরী,এডভোকেট সঞ্জীবন চৌধুরীকে গুণীজন সম্মাননা প্রদান করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কমরেড শিশুপাল বড়ুয়াকে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মরণোত্তর বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে দীপন স্মৃতি, সতীশ-কুঞ্জ স্মৃতি,স্বপ্না বনিক স্মৃতি, অমর-গৌরী স্মৃতি,মহেন্দ্র-সূর্য্য স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তির অধীনে মোট ৪০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়।এছাড়া অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আয়োজন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, তারাচরণ পরমহংসদেবের ১৪৭ তম শুভ আবির্ভাব তিথি ও বাসন্তীপূজা উপলক্ষে রাউজান ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার সনাতনী সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উৎসবকে ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক সাজসজ্জাকরণ করা হয়।


