শফিউল আলম, রাউজানঃ চট্টগ্রামের রাউজানে কৃষি জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। ইতোমধ্যে বাগান থেকে তরমুজ বিক্রি শুরু হওয়ায় এখানকার কৃষকদের এখন বেশ আনন্দের সময় যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের সযোগিতায় এখানকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সুস্বাধু তরমুজ চাষ করেছে চাষিরা। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার রাউজান উপজেলাজুড়ে চলতি মৌসুমে ১৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এখনো আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাষিরা আশায় রয়েছে ফসল বিক্রি করে লাভ ঘরে তোলা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নোয়াপাড়া, ডাবুয়া, নোয়াজিষপুর, সুলতানপুর, হিংগলা ইউনিয়ন ও পৌরসভায়সহ বেশকিছু এলাকায় তরমুজের চাষ করেছে এখানকার কৃষকরা। তারমধ্যে জেব্রা কিংস, গ্লোরি, রেড বোল, সেম্পিয়ান ও ব্ল্যাক ডায়মন্ড জাতের তরমুজ ফলের চাষ করেছেন কৃষকরা। মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে পরিপক্ক ও সুস্বাদু তরমুজ। গাছ থেকে পাকা তরমুজ ছিঁড়ে বস্তায় করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। তরমুজ মাঠে ফসল কাটা ও পরিবহনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা। বিগত কয়েক বছরের চেয়ে এবার ব্যাপক ফলন হয়েছে। তরমুজ চাষি মো. হাসান বলেন, তিনি এই বছর ১২০ কানি জমিতে তরমুজ চাষ করেছে। প্রায় ৪৫লাখ টাকা তার খরচ হয়েছে। তিনি বলেন আবহাওয়া অনুকূল আর রোদ থাকলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি। স্থানীয় মানুষের চাহিদা মিটিয়ে তার সুস্বাধু এই তরমুজগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন তার এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে রাউজান উপজেলা কৃষি বিভাগের রয়েছে নিরলস প্রচেষ্টা। যথাযথ পরামর্শ প্রদান করায় উচ্চ ফলন তরমুজ উৎপাদন করছেন তারা। রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির বলেন, রাউজানে ১৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের তরমুজের চাষ হয়েছে। শুরু থেকে কৃষি বিভাগ চাষিদের পাশে ছিল। আগামী দিনগুলোতে এই উপজেলায় তরমুজের আবাদ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের জন্য আরও বড় পরিসরে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন তারা। আবহাওয়া যদি শেষ পর্যন্ত কৃষকের অনুকূলে থাকে লাভ নিয়ে কৃষকরা বাড়ি ফিরবে।


