বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো কৃষি, তৈরি পোশাক ও প্রবাসী আয়, এই তিন খাতের ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ওষুধশিল্প ও অর্ধপরিবাহী (সেমিকন্ডাক্টর) চিপ শিল্পসহ নতুন খাতগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলেতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এবং বাংলাদেশ এ খাতে সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর অপরিহার্য।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে ‘বিশ্বমুখী হই, আমাদের সাথে’ স্লোগান সামনে রেখে আনশিন জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কনসালটেন্সির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আনশিন জাপান কনসালটেন্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমএম তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন এসডিজি ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহার, ওয়েল আপ টেকনোলজির পরিচালক বখতিয়ার হোসেন, নিপ্পন একাডেমির শিক্ষক শাহেদুল ইসলাম, যুব সংগঠক জসিম উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।
মেয়র বলেন, জাপান শুধু পড়াশোনার দেশ নয়, এটি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও সৃজনশীলতার পাঠশালা। শিক্ষার্থীরা সেখানে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি দেশের সুনাম বাড়াতে পারবে।
নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে মেয়র বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে হবে।
দৈনন্দিন প্লাস্টিক ও জৈব বর্জ্য পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে সার, বিদ্যুৎ ও বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বিদেশগমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু কর্মসংস্থানের জন্য নয়, বরং উন্নত দেশের প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জন করে তা দেশে প্রয়োগ করার মানসিকতা থাকতে হবে। এটাই প্রকৃত দেশপ্রেম।
জাপানে গিয়ে অর্জিত দক্ষতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।
অনুষ্ঠানে ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, আরবি ও কোরীয় ভাষার দক্ষতা আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায়। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
এমএম তারিকুল ইসলাম বলেন, ভবিষ্যতের পথে এগোতে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও সততার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের এই মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে।
প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দিন বলেন, জাপানের শিক্ষা ও গবেষণা পরিবেশ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে। দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।


