পাহাড়ের প্রধান উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংক্রাই ও চাংক্রান পাতা উদযাপন উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী জুম্ম বলী খেলা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে রাঙ্গামাটির চিং হ্লা মং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
ছোট, মাঝারি ও বড় এই তিনটি বিভাগে মোট ১৫ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। প্রতিযোগিতার ফাইনালে গতবারের চ্যাম্পিয়ন খাগড়াছড়ির সৃজন চাকমাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হন রাঙ্গামাটির কালিন্দীপুর এলাকার দীপু চাকমা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাংসদ ঊষাতন তালুকদার এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম (ক) অঞ্চলের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত উপ সচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা।
খেলায় অংশ নেয়া খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার সুমন চাকমা বলেন, ‘এই বলী খেলা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমি প্রতি বছরই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে রাঙ্গামাটি আসি। এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই আমাদের অংশগ্রহণ।’
এ ব্যাপারেসাবেক সাংসদ ঊষাতন তালুকদার বলেন, ‘এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি নিয়মিতভাবে এ ধরনের আয়োজন না করা হয়, তাহলে আমাদের গ্রামবাংলার শত বছরের ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে। নতুন প্রজন্ম তখন এই সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তাই খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ‘বলী খেলার মতো প্রতিযোগিতা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং এখান থেকেই ভবিষ্যতের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি হতে পারে।’
প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, ‘যুব সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে খেলাধুলা। তাই প্রতি বছর আমরা এই ধরনের আয়োজন করে যাচ্ছি, যাতে তরুণরা নিজেদের দক্ষতা প্রকাশের সুযোগ পায়। শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এর মাধ্যমে সামাজিক বন্ধনও দৃঢ় হয় এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।’
ভবিষ্যতেও এই আয়োজন আরও বড় পরিসরে চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার বলেন, ‘বিজু ও অন্যান্য পাহাড়ি উৎসব শুধু আনন্দের নয়, এটি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক। আগামীকাল রবিবার সকালে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে এই উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।’


