জাহেদ কায়সার, প্রিয় চট্টগ্রাম: আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হলো নতুন আরেকটি বছর—স্বাগত ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। ভোরের প্রথম সূর্যরশ্মি যেন আলোকিত করে নতুন আশার দিগন্ত, রাঙিয়ে তোলে জীবনের অনাগত দিনগুলোকে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার রঙে।
নতুন বছর মানেই নতুন প্রত্যাশা, নতুন শপথ। পুরোনো বছরের সব গ্লানি, ব্যর্থতা আর ক্লান্তিকে পেছনে ফেলে বাঙালি আজ বরণ করে নেয় এক অনিন্দ্য সুন্দর সূচনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই চিরন্তন আহ্বান—
“এসো হে বৈশাখ, এসো এসো”—
বয়ে আনে শুদ্ধতার বার্তা; মুছে দিতে চায় জীর্ণতা আর অবসাদের সব চিহ্ন।
অন্যদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের উদ্দীপনাময় উচ্চারণ—
“তোরা সব জয়ধ্বনি কর”—
নতুনের জয়গান গেয়ে জাগিয়ে তোলে সাহস, শক্তি ও সম্ভাবনার অমিত প্রেরণা।
বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব—এটি শুধু একটি দিন নয়, বরং একটি চেতনা, একটি ঐতিহ্য, একটি সাংস্কৃতিক বন্ধন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এক সুতোয় গেঁথে দেয় এই উৎসব। গতানুগতিক জীবনের একঘেয়েমি ভেঙে নববর্ষ নিয়ে আসে নতুন সুর, নতুন উদ্দীপনা এবং মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অতীতের সব দুঃখ-বেদনাকে ভুলে গিয়ে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় উদযাপিত হয় এই দিনটি।
চট্টগ্রাম নগর আজ উৎসবের বর্ণিল আবহে মুখর। ডিসি হিল, সিআরবি শিরীষতলা, শিল্পকলা একাডেমি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। বৈশাখী শোভাযাত্রা, সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি ও লোকজ মেলায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে নগরজীবন।
এদিকে বাঙালি নারীর ঐতিহ্যবাহী সাজে যুক্ত হয়েছে লাল-সাদা শাড়ি, কপালে লাল টিপ আর খোঁপায় ফুলের বাহার। নগরীর চেরাগী পাহাড় এলাকার ফুলের দোকানগুলোতে গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ফুলে জমে উঠেছে রঙিন বাজার।
বর্ষবরণকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে নতুন বছরকে।
নবপ্রভাতের এই দিনে বাঙালি যেন আবার নতুন করে নিজের পরিচয় খুঁজে পায়—
নিজেকে আবিষ্কার করে এক গর্বিত জাতি হিসেবে, যে জাতি তার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধে অনন্য।
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩।


