মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু,কাপ্তাই(রাঙামাটি): বর্ণিল আয়োজনে মধ্য দিয়ে কাপ্তাইয়ে বরণ করা হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। এউপলক্ষে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলা শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় গেস্ট হাউজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা লাল-সাদা পোশাক, মুখোশ, ঢাক-ঢোল, আলপনা ও বৈশাখী সাজে উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে। দিনব্যাপী এই আয়োজনের মধ্যে ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ পরিবেশন।
শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, উপজেলা বিএনপি সভাপতি লোকমান আহমেদ, কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, ওসি (তদন্ত) আমীর সোহেল, উপজেলা তথ্য অফিসার মোঃ দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্ত, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ আনিসুর রহমান। বাচিক শিল্পী নুর মোহাম্মদ বাবুর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ কাপ্তাই উপজেলা শাখার আমির মোঃ হারুনুর রশিদ, তনচংগ্যা কল্যাণ সংস্থা কাপ্তাই অঞ্চলের সভাপতি অজিত কুমার তনচংগ্যা, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইব্রাহিম হাবিব মিলু, যুব নেতা মাসুদ, কাপ্তাই খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ ঘোষ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ ইব্রাহিম সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পহেলা বৈশাখ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। মুঘল আমলে বাংলা সনের প্রবর্তনের ধারাবাহিকতায় নববর্ষ আজ সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। আলপনা, বৈশাখী মেলা, লোকসংগীত, নৃত্য ও পান্তা-ইলিশ- সব মিলিয়ে এটি বাঙালির মিলনমেলা।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের শিকড়ের সাথে সংযোগের দিন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে এই উৎসব উদযাপনই বাঙালির প্রকৃত শক্তি। নতুন বছরের শুরুতে আমরা বৈষম্য, হিংসা ও কুসংস্কার পরিহার করে মানবিক, পরিচ্ছন্ন ও সংস্কৃতিমনা কাপ্তাই গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি। কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন দেশবাসীসহ কাপ্তাইবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। বৈশাখের এই আনন্দ-উৎসব আমাদের পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করুক। কাপ্তাইসহ সারাদেশে নববর্ষ হোক নিরাপদ, আনন্দমুখর ও কল্যাণময়।


