শফিউল আলম, রাউজান: প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছের প্রজনন মৌসুমে মা মাছ ডিম ছাড়লে নদীতে থেকে ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা ও জাল দিয়ে ডিম সংগ্রহ করে মান্দাতা আমলের মতো নদীর পাড়ে খনন করা মাটির কুয়ায় ডিম ফুটানোর ফলে অনেক সময়ে ডিম নষ্ট হয়ে যায়। হালদা নদীর মা মাছের ডিম ফুটিয়ে ডিম থেকে রেনু উৎপাদনের জন্য সরকার রাউজানের পশ্চিম গহিরা, গহিরা মোবারক খীল, কাগতিয়া, হাটহাজারীর মদুনাঘাট, শাহ মাদারী, মাছুয়াা ঘোনা এলাকায় হ্যচারী নির্মাণ করেন। গত কয়েক বৎসর ধরে হ্যচারী গুলো অকোজে হয়ে পড়ে। মেরামত কাজ করে সাময়িকভাবে রাউজানের গহিরা মোবারক খীল, হাটাহাজারীর মদুনাঘাট, শাহ মাদারী ও মাছুয়াঘোনা এলাকার হ্যচারীগুলোতে মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে ডিম সংগ্রহকারীরা নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করে হ্যচারীতে ডিম ফুটাতো।
এতে ব্যাপক ভাবে ডিম ফুটাতো সক্ষমতা না থা থাকায় ডিম সংগ্রহকারীরা মান্দাতা আমলের নদীর তীরে খনন করা মাটির কুয়ায় ডিম ফটিয়ে রেনু উৎপাদন করতো। এবার মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে হালদা মা মাছের প্রজনন রক্ষায় হালদা মৎস প্রজনন ও উন্নয়ন প্রকল্প ২ এর অর্থায়নে রাউজানের পশ্চিম গহিরা, গহিরা মোবারক খীল, কাগতিয়া, হাটহাজারীর মদুনাঘাট, শাহ মাদারী,মাছুয়াা ঘোনা এলাকায় অকোজো হয়ে পড়ে থাকা হ্যচারী মেরামত ্ও নির্মান কাজ করে মা মাছ ডিম ছাড়লে নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করার পর হ্যচারীতে ডিম রেখে ডিম থেকে রেনু উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে হালদা মৎস প্রজনন ও উন্নয়ন প্রকল্প ২ এর পরিচালক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন জানান।
সরজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায় হাটহাজারীর মদুনাঘাট, শাহ মাদারী, মাছুয়া ঘোনা, রাউজানের গহিরা মোবারক খীল, পশ্চিম গহিরা এলাকায় হ্যচারীগুলো মেরামত ও নির্মাণ কাজ করে সচল করা হয়েছে। রাউজানের কাগতিয়া হ্যচারী ও পুনঃ নির্মান কাজ চলছে। মার্দ্রাসা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী শফিউল আলম বলেন, পুরাতন হ্যচারীগুলো মেরামত ও পুনঃনির্মাণ কাজ করে সচল করা হয়েছে। আগোর হ্যচারী ব্যতিত হ্যচারীর পাশে নতুন করে হ্যচারী নির্মাণ করেছে। হ্যচারীগুলোতে জেনাটার, বিদুৎ লাইনেসর সংযোগ সচল করা হয়েছে। হ্যচারীর ধসে পড়া সীমানা প্রাচীর পুনঃ নির্মান করা হয়েছে। ডিম সংগ্রহকারী শফিউল আলম আরো বলেন রাউজান হাটহাজারীর হালদা পাড়ের বাসিন্দ্বা যারা ডিম সংগ্রহ করে তারা নৌকা ও জাল প্রস্তুত করে রেখেছে ।প্রবল বর্ষণ ও বজ্রপাত হলে নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি বৎসর চৈত্র মাস থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত সমযে হালদা নদীতে মা মাছ হালদা নদীতে ডিম ছাড়ে।মা মাছ ডিম ছাড়ার পর রাউজান হাটহাজারী হালদা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাস কারী জেলে ও ডিম সংগ্রহকারীরা হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে নৌকা ও জাল নিয়ে নদী থেকে ডিমসংগ্রহ করে হ্যাচারী ও নদীর তীরে খনন করা মাটির কুয়ার ডিম রেখে ডিম থেকে রেনু উৎপাদন করেন। রাউজান হাটাহাজারীর ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা ও জাল নিয়ে প্রতিক্ষার প্রহর গুনছেন কবে ডিম ছাড়বে। হ্যচারী মেরামত ও নির্মান করার পরও কিছু কিছু এলাকায় নদীর তীরে মাটি খনন করে মাটির কুয়া তৈরি করছে ডিম সংগ্রহকারীরা। হালদা নদীর রাউজান অংশের পশ্চিম গহিরা অংকুরী ঘোনা পশ্চিম গহিরা বড়ুয়া পাড়া, দক্ষিন গহিরা, সোনাইর মুখ, পশ্চিম বিনাজুরী, গোলজার পাড়া, কাসেম নগর, আজিমের ঘাট, মগদাই, পশ্চিম আবুরখীল, নাপিতের ঘাট, খলিফার ঘোনা, উরকিরচর, মাইশকরম, সার্কদা, মোকামী পাড়া, কচুখাইন, হাটহাজারীর গড়দুয়ারা, নয়াহাট, আমতোয়া, মাছুয়া ঘোনা, বাড়ীঘোনা, শাহমাদারী মাদ্রাসা, দক্ষিণ মাদ্রাসা, মদুনাঘাট এলাকায় নদীর তীরে মাটির কুয়া তৈরি করে রেখেছে ডিম সংগ্রহকারীরা। প্রতি বছর এপ্রিল-মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুন মাসের যে কোনো পূর্ণিমা ও অমাবস্যার কয়েকদিন আগে-পরে জোয়ার ও ভাটার সময় কার্প জাতীয় (রুই, কাতলা, মৃগেল, কালি বাউস) মা মাছ হালদা নদীতে ডিম ছাড়ে। ভারি বর্ষণ ও বজ্রপাত হলে নদীতে পাহাড়ি ঢলের স্রােতের পানি নেমে আসলে মা মাছ নদীতে ডিম ছাড়ে। ভারী বর্ষনের অপেক্ষার প্রহর গুনছে ডিম সংগ্রহকারীরা এদিকে হালদা নদীর মা মাছের প্রজনন রক্ষায় হালদা নদীতে যান্ত্রিক নৌযান চলাচল নিষেধ করা হয়েছে। প্রকল্পের অর্থায়নে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে রাউজান উপজেলা প্রশাসন, হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন, মৎস অধিদপ্তর, নৌপুলিশ প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার জাল ও বড়শী উদ্বার করে জাল ও বড়শী আগুনে পুড়িয়ে ধংস করা হয়েছে। বালু উত্তোলন ও যান্ত্রিক নৌযান আটক করে জরিমানা ও জেল দেওয়া হয়েছে জড়িত ব্যক্তিদের। হালদা নদীর মা মাছ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সরজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায় হালদা নদীর মা মাছের প্রজনন রক্ষায় হালদা নদী মনিটারিং করার জন্য রাউজান হাটহাজারীর হালদা নদীর তীরে বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামরা বসানো হয়। হালদা নদীর তীরে বসানো সিসি ক্যমরার খুটি থাকলে ও সিসি ক্যামরা গুলো অকোজো হয়ে পড়ে রয়েছে। মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে ও সিসি ক্যমরা গুলো এখনো সচল করা হয়নি। হালদা নদী পর্যকেক্ষনের জন্য ড্র্নোন ক্যমেরা দেওয়া হলে ও ড্রোন ক্যমরা মাঝে সীমিত সময়ের জন্য হালদা নদীতে উড়ানো হলে ও প্রতিনিয়ত ড্রোন ক্যমরা নদীতে উড়ানো হয়না বলে ডিম সংগ্রহকারীরা অভিযোগ করেন।


