মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু,কাপ্তাই (রাঙামাটি): কাপ্তাই উপজেলাধীন রাইখালী ইউনিয়নের নারানগিরি ২নং ওয়ার্ডের ভাঙা সাঁকোর স্থলে স্থানীয় পাহাড়ি–বাঙালি মিলে স্বেচ্ছাশ্রমের বিনিময়ে একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। ওই পাড়ায় ১৫০টি পরিবার বসবাস করে। পাড়ায় যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন ছিল নারানগিরি খালের উপর নির্মিত জরাজীর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো। সেতুটি নির্মাণ করায় পাড়াবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্ট লাগব হবে।
স্থানীয় একালাবাসী জানায়, সাঁকোটি ব্যবহার করে এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মন্দির, প্যাগোডায় যাতায়াত করে থাকে। বিভিন্ন পেশাজীবিরা তাদের কর্মস্থলে এবং সাপ্তাহিক রাইখালী বাজারে যেতে এই সাঁকোটি ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া অসুস্থ, মুমূর্ষু রোগী ও গর্ববতী মা, বোনেরা ডাক্তারের কাছে ও হাসপাতালে যাতায়াত করতে এই সাঁকোটি ব্যবহার করেন। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাঁকোটি কর্ণফুলী নদীতে তলিয়ে বা ভেঙ্গে যায়।
একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেও স্থায়ী সেতু নির্মাণে কোন আশারবাণী পাওয়া যায়নি। ফলে এলাকাবাসী হতাশ হয়ে পড়ে। উপায় না দেখে এলাকাবাসী গত ১৫ দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করলেন একটি বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে অস্থায়ী ঝুলন্ত সেতু। যা গত মঙ্গলবার (২৬ মে) সম্পন্ন হয়েছে।
এলাকায় বসবাসকারী মোঃ আবুল হোসেন, মানিক মিয়া, বাছা মিয়া, লাতু মারমা সহ স্থামীয় কারবারি সুইথি মং মারমা জানান, আমাদের পাড়াবাসীর দুঃখ এই সাঁকোটি। জরাজীর্ণ সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা চলাচল করে আসছি দীর্ঘ বছর ধরে। বিশেষ করে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যখন এই সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যায়, তখন অজানা আশংকা ভর করে আমাদের মনে, কখন জানি তারা খালে পড়ে যায়। এছাড়া অসুস্থ, মুমূর্ষু রোগী ও গর্ববতী মা-বোনেরা ডাক্তারের কাছে ও হাসপাতালে যাতায়াত করতে এই সাঁকোটি ব্যবহার করেন।
এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে চলাচল করার সময় অনেক স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিরা সাঁকো থেকে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা অভিযোগ জানায়। প্রায় প্রতিবছর বর্ষায় সাঁকোটি পানির তোড়ে ভেসে যায়।
বিগত সরকারের সময় একাধিকবার আবেদন করেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় পাড়াবাসী গত ১৫ দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে নিজেদের আর্থিক সহায়তায় অস্থায়ীভাবে ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণ করেন। তারা বলেন, সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি- এই খালের উপর একটি স্থায়ী সেতু৷ নির্মিত হউক।
রাইখালী ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান এনামুল হক জানায়, নারানগিরি খালের উপর স্থায়ীভাবে একটা সেতু নির্মাণ করার দাবী দীর্ঘদিনের। সেতুটি নির্মিত হলে জনভোগান্তি দূর হবে।
রাইখালী ইউপি চেয়ারম্যান মংক্য মারমা জানান, সাঁকোটি জরাজীর্ণ হওয়ায় এলাকাবাসী নিজেরা অর্থ ব্যয় করে স্বেচ্ছাশ্রমে ঝুলন্ত বাঁশের সেতুটি নির্মাণ করেছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একাধিকবার ওই খালের উপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হউক।
কাপ্তাই উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরে এই খালের উপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাবটি পাস হয়েছে, অচিরেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। আশা করি আগামী অর্থ বছরে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।


