ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কারণে তিন সপ্তাহ ইউরোপে কোয়ারেন্টিনে থাকার পর অবশেষে বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো বা ডিআর কঙ্গো দল।
বৃহস্পতিবার প্যারিস থেকে ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায় কঙ্গো দল।
নিজ দেশে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ তাদের বেলজিয়ামে কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। তা না হলে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা পাওয়ার ঝুঁকি ছিল দলটির।
কঙ্গোর প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্র আশা করছেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তার দল বিশ্বকাপে ভালো খেলবে। একই সঙ্গে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত দেশের মানুষকে কিছুটা আনন্দ দিতে পারবে।
ফরাসি এই কোচ বলেন, ‘অনেক দিন হয়ে গেছে, দেশের মানুষ বিশ্বকাপে তাদের দলকে দেখেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের সম্মান পেয়েছি।
এখন এই টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্স দেখানো আমাদের দায়িত্ব।’
১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলছে কঙ্গো। সেবার দেশটি খেলেছিল জায়ার নামে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে ফিরলেও প্রস্তুতিতে বড় ধাক্কা খেতে হয়েছে তাদের।
গত মাসে দেশে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার পর ঘরের মাঠে পরিকল্পিত প্রাক-বিশ্বকাপ ক্যাম্প বাতিল করতে হয় কঙ্গোকে। এরপর দলটি বেলজিয়ামকে প্রস্তুতির ঘাঁটি হিসেবে বেছে নেয়।
ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় স্পেনে চিলির বিপক্ষে তাদের নির্ধারিত প্রস্তুতি ম্যাচটিও বাতিল হয়ে যায়। এতে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি আরও এলোমেলো হয়ে পড়ে।
তবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কোচ দেশাব্র। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি। আমাদের মনোযোগ ধরে রাখতে হয়েছে, কারণ অনেক সময়ই আমাদের মানিয়ে নিতে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সেটিই করেছি। ভালোভাবে কাজ করেছি, দুটি কঠিন প্রীতি ম্যাচ খেলেছি। এখন আমরা এখানে। এটি আমাদের জন্য আরেকটি ধাপ।’
বিশ্বকাপে কঙ্গোর ঘাঁটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে। ১৭ জুন সেখানে গ্রুপ ‘কে’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের মুখোমুখি হবে তারা।
এরপর ২৩ জুন মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলবে কঙ্গো। ২৮ জুন আটলান্টায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান।


