শামসু উদ্দিন, টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি পুকুর বর্তমানে চরম পরিবেশগত বিপর্যয় ও স্বাস্থ্য সংকটের মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাব অবাধে বর্জ্য নিক্ষেপ এবং নিয়মিত কাপড় ধোয়ার কারণে একসময়ের স্বচ্ছ পানির এই আধারটি এখন বিষাক্ত জলাশয়ে পরিণত হয়েছে, যা স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঐতিহাসিক এই পুকুরটি শুধু পানির উৎসই নয়, এটি এ অঞ্চলের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও কোমলমতি শিশুদের চিত্তবিনোদনের প্রধান কেন্দ্র ছিল। বিশেষ করে কেরালা গাছের ছায়ায় ঘেরা এই মনোরম পুকুর পাড়েই খেলাধুলা ও সাঁতার কেটে বড় হয়েছেন এ অঞ্চলের কৃতি ফুটবলার আব্দুল আজিজ প্রকাশ আড্ডু মেজ ভাই । এই পুকুরটিকে ঘিরেই স্থানীয় শিশুরা সাঁতার কাটা ও খেলাধুলা করে শৈশব উপভোগ করত। কিন্তু নাগরিক অসচেতনতা ও অযত্নে আজ সেই ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি তার চিরচেনা রূপ হারাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পুকুরটির পানি মারাত্মকভাবে ঘোলাটে ও বিবর্ণ রূপ ধারণ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রতিদিন এখানে ব্যবহৃত নোংরা কাপড়-চোপড় ও থালা-বাসন ধোয়ার কাজ করছেন। সাবান এবং ডিটারজেন্টের ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রণের ফলে পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া, সরকারি সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও পুকুরের চারপাশে ও পানিতে দেদারসে প্লাস্টিক, গৃহস্থালির বর্জ্য এবং নানাবিধ ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে দিন দিন পানি ব্যবহারের অনুপযোগী ও দূষিত হয়ে উঠছে যার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে পুকুরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও আসল সৌন্দর্য।
এই দূষিত ও বদ্ধ পানির কারণে এলাকায় মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যা ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো মারাত্মক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি এই বিষাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে স্থানীয় মানুষের মাঝে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাবেক জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের উদ্বেগ:
পুকুরটির এই চরম দুরাবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকার সাবেক কমিশনার হারেম কমিনার এবং বিশিষ্ট স্থানীয় ব্যক্তিত্ব আব্দুল আজিজ প্রকাশ আড্ডু মেজ ভাই । তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই পুকুরটি আমাদের এলাকার একটি ঐতিহ্য এবং বহু মানুষের নিত্যদিনের পানির প্রধান উৎস ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের চোখের সামনে দিনের পর দিন অবহেলা ও তদারকির অভাবে এটি আস্তে আস্তে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেল। অথচ স্থানীয় প্রশাসন এটি রক্ষায় এখনও কোনো কার্যকরী ভূমিকা নেয়নি।
পরিবেশবিদদের মতে দ্রুত এই জলাশয়টি সংস্কার বা পরিষ্কার করার উদ্যোগ না নিলে এটি টেকনাফ উপজেলার জন্য একটি স্থায়ী জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হবে। ফুটবলার আব্দুরহমান বলেন এই স্থান, শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং সরকারি এই মূল্যবান সম্পদ রক্ষা করতে পুকুরটি দ্রুত পুনরায় খনন, সংস্কার ও দূষণমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন সাবেক কমিশনার হারেম ও আব্দুল আজিজ প্রকাশ আড্ডুসহ আব্দুরহমান স্থানীয় সচেতন মহল।
দূষণে বিপন্ন টেকনাফের ঐতিহ্যবাহী সরকারি পুকুর: বিষাক্ত পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি
সংবাদটি শেয়ার করুন
একটি মন্তব্য করুন
একটি মন্তব্য করুন


