রেকর্ড মাত্রায় তাপমাত্রা। সাগর উত্তপ্ত হয়ে পড়ছে। এন্টার্কটিকায় বরফ উদ্বেগজনকভাবে গলে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব ঘটনা ঘটছে দ্রুতগতিতে এবং যে সময়ে এটা ঘটছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। পাকিস্তান, ভারত সহ বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয় সম্প্রতি। ইউরোপজুড়ে বিপজ্জনক তাপদাহ। এসব ঘটনাই আগের রেকর্ডকে ভেঙে দিচ্ছে। এমন কথা বলেছে জাতিসংঘ। আবহাওয়া এবং সমুদ্র এতটাই জটিল হয়ে পড়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের এসব ইভেন্টকে তাৎক্ষণিকভাবে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করা খুবই কঠিন। এসব নিয়ে গবেষণা চলছে।
কিন্তু তার আগেই ভয়াবহ কিছু ঘটনা ঘটে চলেছে। এতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের পরিবেশ বিষয়ক জিওগ্রাফার থমাস স্মিথ বলেন, যখন জলবায়ু ব্যবস্থায় সব কিছু ছিল রেকর্ড ভঙ্গকারী অবস্থায় বা অস্বাভাবিক অবস্থায় তখন একই সময়ের এ বিষয়টি নিয়ে আমি অবহিত নই। পৃথিবী এক অনিশ্চিত অবস্থায় আছে এখন। জীবাশ্ম জ্বালানির দহনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য এর অনেকটাই ঘটছে।
এ ছাড়া প্রথম এল নিনো থেকেও উত্তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে ২০১৮ সাল থেকে। ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জলবায়ু বিষয়ক লেকচারার ড. পাউলো সেপ্পি এ কথা বলেছেন। এই গ্রীষ্মে জলবায়ু বিষয়ক চারটি রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। তার মধ্যে আছে একদিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড, বৈশ্বিকভাবে সবচেয়ে উত্তপ্ত জুনের রেকর্ড, চরমমাত্রায় সমুদ্রে তাপপ্রবাহ এবং এন্টার্কটিকায় সমুদ্রের বরফের স্তর সর্বনিম্ন। এ যাবৎকালে জুলাই মাসে যে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি উত্তপ্ত এ বছরের জুলাই মাস। ২০১৬ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রার সর্বোচ্চ গড় রেকর্ড যা ছিল, তা এ মাসে ভঙ্গ হয়েছে। প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে মনিটরিং করা কোপার্নিকাসের মতে, ৬ই জুলাই এই গড় তাপমাত্রা পৌঁছে যায় ১৭.০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধির নেপথ্যে আছে তেল, কয়লা এবং গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো থেকে ক্রমবর্ধমান হারে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন।
ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জলবায়ু বিষয়ক বিজ্ঞানী ড. ফ্রেডেরিক ওটো বলেন, অধিক পরিমাণ গ্রিনহাউজ গ্যাসের ফলে বিশ্ব উষ্ণ হয়ে উঠবে এবং এর ফলে যা ঘটবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল, প্রকৃতপক্ষে এসব ঘটনা তাই। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য মানবজাতিই শতভাগ দায়ী। উল্লেখ্য, জলবায়ুর প্রাকৃতিক উঠানামার জন্য পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী ইভেন্ট হলো এল নিনো। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের পৃষ্ঠে এটা নিয়ে আসে উষ্ণ পানি। উষ্ণ বাতাস ছুড়ে দেয় আবহাওয়ায়। স্বাভাবিক অর্থে এটা বৈশ্বিকভাবে বাতাসের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। শিল্পায়ন যুগের আগের পর্যায়ে পৃথিবীতে জুনে যে তাপমাত্রা ছিল তার চেয়ে এ বছর জুনে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১.৪৭ ডিগ্রি বেশি। প্রায় ১৮০০ সালের দিক থেকে শুরু হয় শিল্প-বিপ্লব। তখন থেকেই আবহাওয়ায় গ্রিন হাউজ গ্যাস ছাড়া শুরু করেছে মানবজাতি।


