চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেছেন, কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা চিরস্থায়ী করতে সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়া কে সার্কাসে পরিণত করেছে। বিএনপিকে বাইরে রেখে আওয়ামী লীগ একটি ‘ভুয়া’ নির্বাচনের মাঠ সাজাচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনও সভা-সমাবেশ বন্ধের নামে জনগণের মতপ্রকাশের উপর হস্তক্ষেপ করছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে সভা-সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক। জনগণ এই পাতানো, তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচনের অংশিদার হতে চায় না। তাই জনগণের টাকা অপচয় না করে অবিলম্বে এই তামাশার নির্বাচন বন্ধ করুন, একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন। চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করে এবং পুনঃতফশিল করে নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্টান সমূহকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া যাবেনা। দেশের মানুষ আজ তাদের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের সংগ্রামে রাজপথে নেমে এসেছে। অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে জনগণের বিজয় অনিবার্য।
তিনি আরোও বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরে এসেও দেশের জনগণকে ভোটাধিকারের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য খুবই বেদনানায়ক ও লজ্জাজনক। স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ছিল- সাম্য, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তি। এত বছর পরেও আমরা রাজনৈতিক শোষণ, অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্ত হতে পারিনি বরঞ্চ গণতন্ত্রের লেবাসধারী আওয়ামী লীগের হাতেই গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে। এদেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা নেই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই, ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার নেই। কর্তৃত্ববাদী শাসনের নির্মমতা চারদিকে বিদ্যমান। আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনে স্বাধীন দেশের জনগণ আজ পরাধীন । দেশের বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা হামলা-মামলা, গ্রেফতার-নির্যাতনের কারণে নিজের ঘর-বাড়ি ফেলে রেখে বাগানে-ধান ক্ষেতে ঘুমাতে হচ্ছে। সারাদেশ আজ কারাগারে পরিণত। তারা উন্নয়নের কথা বলে আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে দেশের সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা একে একে ধ্বংস করছে। সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাংক লুট ওা টাকা পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি আজ ভেঙ্গে পড়েছে। দ্রব্যমূল্যের চরম উর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে আওয়ামীলীগ দেশকে গভীর সংকট ও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জনগণ জুলুম ও শোষনের অবসান দেখতে চায়।
আজ ১৯ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার এলাকায় হরতালের সমর্থনে চান্দগাঁও থানা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মাহবুবুল আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু,মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আজিজ, চান্দগাঁও থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন ভ‚ইয়া,মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য জসিম উদ্দিন, চান্দগাঁও থানা যুবদলের আহবায়ক গোলজার হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক আবু বক্কর রাজু, ৬নং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরনবী, চান্দগাঁও ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. আলমগীর, মো. আলমগীর, চান্দগাঁও থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাজিদ হাসান রনি, পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ইকবাল হোসেন, মো. বেলাল আমিন, মো.আনিসুজ্জামান, চান্দগাঁও থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক রায়হান সিদ্দিকী, যুবদল নেতা মো. মুরাদ, সাদ্দাম হোসেন, মো. বাদশা, আজমল, আব্দুল করিম বাবলু, মো. সায়মন, ইমরান হোসেন,আব্দুর রহিম, মো. নাঈম, আলাউদ্দিন, মো. খোকন, মো. সরোয়ার, মো. মিজান, ফরহাদ সহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতৃবৃন্দ।


