জাহেদ কায়সার, প্রিয় চট্টগ্রাম: বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শোকস্তব্ধ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই নয়াপল্টনে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের ঢল নামে। প্রিয় নেত্রীর বিদায়ে পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
ফেসবুক পেজে অনেকেই তাঁদের প্রোফাইল পিকচার কালো করে শোক জানাচ্ছেন খালেদা জিয়ার জন্য; স্মরণ করছেন দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে তাঁর অবদান।
খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকাল ১০টা থেকে দলীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে পবিত্র কুরআনখানি শুরু হয়। একই সঙ্গে তার স্মৃতির প্রতি
শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খোলা হয়েছে শোক বই। এতে স্বাক্ষর করছেন কূটনীতিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দুপুরে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সকালে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বৈঠকের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে জানান। তিনি জানান, বুধবার বাদ যোহর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই দাফন করা হবে। আপসহীন এই নেত্রীর জানাজায় অংশ নেবে অসংখ্য মানুষ। তাই নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য সংসদ ভবনের চারপাশে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
কিছু সময় আগে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
এদিকে সকাল আনুমানিক দশটার দিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করার জন্য গণপূর্ত বিভাগ থেকে নেওয়া হয়েছে কবরের মাপ। তবে এখনো শুরু হয়নি খনন কার্য। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমাধিস্থলে মোতায়েন রয়েছে র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এবং তার জানাজায় অংশ নিতে বেশ কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশেষ দূত ও প্রতিনিধিরা বুধবার ঢাকায় আসছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বেগম খালেদা জিয়ার
শেষকৃ
ত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুংগিয়েল, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ও দেশটির উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী আলী হায়দার আহমেদের ঢাকা আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকায় আসার খবর ইতিমধ্যেই স্ব স্ব দেশের হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা জানাতে আসার তথ্যও জানা গেছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না। তিনি দেশের নেতা ছিলেন। গণতন্ত্র রক্ষায় তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কখনো আদর্শ থেকে সরে যাননি।


