দেশের সকল নাগরিকের জন্য সহনশীল, সংবেদনশীল, মানবিক ও স্থিতিশীল দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি। তিনি বলেন, একটি দেশের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো সহনশীল, সংবেদনশীল, মানবিক ও স্থিতিশীলতা। এসব বৈশিষ্ট্য না থাকলে একটি দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির (স্বরসতী জ্ঞান মন্দির) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন এবং মন্দিরের দাতা ও অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শ্রী অদুল কান্তি চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের আলাদা বৈচিত্র্য রয়েছে। কারণ এটি সাধারণ কোনো মন্দির উদ্বোধন নয়, এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বাংলাদেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠের মন্দির উদ্বোধন। এ বিশ্ববিদ্যালয় বৈচিত্র্যময় একটি বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে বৈচিত্র্য ও ঐক্য নেই, সেখানে উন্নতি হয় না। মাননীয় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সকলের নাগরিকের অধিকার সমান। এখানে কোনো সংখ্যালঘু, সংখ্যাগরিষ্ঠ, সাম্প্রদায়িক শব্দ আমরা ব্যবহার করতে চাই না।
মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, বিএনপির দর্শন হলো রংধনু জাতি গঠন করা। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ দর্শন থেকে এটি এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে যারা বসবাস করবে তাদের প্রথম পরিচয় হচ্ছে আমরা বাংলাদেশী, এরপর আমাদের ধর্ম, বর্ণ, গোত্র এবং কৃষ্টি-সংস্কৃতি রয়েছে। বৈচিত্র্য ছাড়া একটি দেশ, সমাজ হতে পারে না। বিএনপি বৈচিত্র্যের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিভাবে দেশ পরিচালনা করছে। এখানে সকলের মতের, চিন্তার ও ভাবনার প্রতিফলন ঘটছে। সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সবাইকে একসাথে চলতে হবে, আলাদা হওয়ার সুযোগ নেই।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ণনা করে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে মনে হচ্ছে আমি প্রকৃতির মধ্যে ডুবে গেছি। অপার সম্ভবনাময় অপূর্ব একটি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনাগুলোকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উন্নয়ন-অগ্রগতিতে পাশে থাকবো। সময়োপযোগী উদ্যােগ গ্রহণ করলে এটি বাংলাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা সম্ভব। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে কাজ করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে। পড়াশোনার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে হবে। মাননীয় মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং আয়োজকসহ সকলকে ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দকে হাটহাজারীতে স্বাগত ও অভ্যর্থনা জানান। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম জাতীয়তাবাদের যে দর্শন দিয়েছিলেন, যেখানে সকল ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ মিলেমিশে বাংলাদেশী পরিচয়ে দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার দর্শন রয়েছে; তার অন্যতম নিদর্শন আমাদের এ হাটহাজারী। এ অঞ্চল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ বলা যায়। এখানে সকল ধর্মের, বর্ণের ও গোত্রের মানুষ অত্যন্ত সোহার্দ্যপূর্ণভাবে এ এলাকার উন্নতির জন্য কাজ করছে। এ এলাকায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গঠনে রাষ্ট্র মেরামতের যে ৩১ দফা দিয়েছেন সেটিও প্রতিফলিত হয়েছে।
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ১৭ বছর পর প্রত্যক্ষভাবে ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংধনু জাতি গঠনের ধারণা গ্রহণ করেই জনগণ বিপুল ভোটে জাতীয়তাবাদী দলকে নির্বাচিত করেছে। আমরা কোনো ধর্ম বা বর্ণের মানুষকে আলাদাভাবে দেখতে রাজী নয়।
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিগত ১৭ বছর অন্ধকারাচ্ছন্ন যে পরিবেশ ছিল সেটা থেকে আমরা উত্তরণ করতে সকল প্রকার ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করে আজকে আমরা যে জায়গায় এসেছি, এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কার কতটুকু অবদান সেই বিতর্ক বা হিংসা বিদ্বেষে না জড়িয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ হিংসা বিদ্বেষ বাংলাদেশীরা আর চায় না। বাংলাদেশের মানুষ চায় জীবনমানের উন্নয়ন হোক। তিনি বলেন, দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছি সেটা সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বাস্তবায়ন করে দেখাবো ইনশাআল্লাহ। এরমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেকগুলো উদ্যােগ গ্রহণ করেছেন। এটা দ্বারা বুঝা যায় আমরা শুধু প্রত্যয় ব্যক্ত করি না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাস্তবে রুপান্তর করেও দেখায়। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা শিক্ষকদের নাম উল্লেখ করেন৷ তিনি বলেন, অদুল কান্তি চৌধুরীকে অনেক ধন্যবাদ। তাঁর অনুদানে ভালো কাজ হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। সকল চিন্তার সম্মিলন হচ্ছে। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আজকের এ অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অবগত আছেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এ দেশের সনাতনীদের চাওয়া হচ্ছে, নিরাপত্তা ও সম্মানের সাথে বসবাস করা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সনাতনীদের নিরাপত্তা ও সম্মানসহ সকল নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। তিনি প্রধান অতিথি মাননীয় মন্ত্রী, বিশেষ অতিথি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাগত জানান এবং বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, আজকে একটি ঐতিহাসিক দিন। এ মন্দির শুধু পাথুরে ঘর নয়, এটি ঐক্যের প্রতীক, এটি সম্প্রীতির প্রতীক। এ মন্দির ভালোভাবে পরিচালনার জন্য আমরা সব ধরনের উদ্যােগ গ্রহণ করবো। উপাচার্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ আমন্ত্রিত সকল অতিথিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। এ মন্দির তীর্থস্থানে পরিণত হবে। এটি সম্প্রীতির অনন্য নজীর। কোনো ধর্মকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কোনো ধর্ম মানুষকে বিপথগামী করে না। এ মন্দির জ্ঞান চর্চা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এ মন্দির প্রতিষ্ঠায় যিনি সহযোগিতা করেছেন, অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এরকম কেন্দ্রীয় মন্দির, সম্প্রীতি বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় থাকবে এবং সবাইকে মিলেমিশে বসবাস করবে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বিদ্যার চেয়ে পবিত্র আর কিছু নেই। মানুষকে মুক্তি পেতে হলে বিদ্যা অর্জন করতে হবে। জ্ঞান অন্ধকারকে দূর করে।
বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি আনন্দের দিন। তিনি বলেন, এ দেশ আমাদের সকলের। এ দেশ গঠনে আমরা সবাই সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।
মন্দিরের দাতা শ্রী অদুল কান্তি চৌধুরী বলেন, আমি এ প্রতিষ্ঠানে সহায়তা করতে পেরে গর্ববোধ করছি। এ কাজে সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতা ও শ্রদ্ধা পেয়েছি। আমরা এ দেশে সবাই মিলেমিশে থাকবো। এ মন্দিরের সাফল্য কামনা করছি। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন মন্দির উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী ও সদস্য সচিব অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. তাপসী ঘোষ রায়। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন প্রফেসর ড. সজীব কুমার ঘোষ। অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং কৃতজ্ঞতা উপহার স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে চবির অনুষদসমূহের ডিনবৃন্দ, চবি রেজিস্ট্রার, প্রভোস্টবৃন্দ, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসক ও অফিস প্রধানবৃন্দ, চাকসু পরিচালক, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, চাকসুর প্রতিনিধিবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, শিক্ষার্থীবৃন্দ, চবি কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার গণমান্য ব্যক্তিবর্গ, ভক্তবৃন্দ, পুণ্যার্থীবৃন্দ, এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


