‘রক্তে ধোয়া মে তোমায় সেলাম’ শ্লোগান সামনে রেখে শাহ আমানত মার্কেট সংলগ্ন আমতল চত্বরে উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আয়োজনে মহান মে দিবসের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি সাংবাদিক জসীম চৌধুরী সবুজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট অসীম বিকাশ দাশের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সহ-সভাপতি ডা.অসীম কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম থিয়েটারের দলপ্রধান অ্যাডভোকেট দীপক চৌধুরী, ভাস্কর ধর প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, মে দিবস হলো দুনিয়ার মেহনতি মানুষের সঙ্কল্প গ্রহণের দিন। এই সঙ্কল্প হলো সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শ্রেণী বৈষম্যের বিলোপ সাধন।
মে দিবস দুনিয়ার শ্রমিকের এক হওয়ার ব্রত। আন্তর্জাতিক সংগ্রাম আর সৌভ্রাতৃত্বের দিন, শ্রমজীবী মানুষের উৎসবের দিন, জাগরণের গান, সংগ্রামে ঐক্য ও গভীর প্রেরণা।
মে দিবস শোষণ মুক্তির অঙ্গীকার, ধনকুবেরের ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ার নতুন শপথ। মে দিবস হলো কাজের সময় হ্রাস ও মজুরি বৃদ্ধির এক আন্দোলন এবং দুনিয়ার শ্রমিক সংহতি দিবস, পুঁজিবাদী শোষণ মুক্তির সংগ্রামী শপথ।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিক শ্রেণীর আন্দোলন থেকেই উঠে এসেছে এই দিনটি। আন্দোলনের পথ কখনই মসৃণ ছিল না, মসৃণ থাকেও না, সময়ের নিয়মেই ছিল নানা ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে, জুলুম অত্যাচারে, প্রতিরোধে, ধর্মঘটে, মিছিলে, সংগ্রামী ঐক্যে রক্তলাঞ্ছিত। মে দিবস একদিনে এই আন্তর্জাতিক চেহারা পায়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। রয়েছে অনেক রক্তঝরার কাহিনী। জন্মলগ্ন থেকেই শ্রমিকশ্রেণীর ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস। শ্রমিকশ্রেণীকে উদয়াস্ত কাজ করতে হবে আঠারো ঘণ্টা, কুড়ি ঘণ্টা পর্যন্ত ছিল কাজের সময়-সীমা। এই অসম সীমারেখার প্রতিবাদ জানিয়েই ১৮৮৬ সালে শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকদের প্রতিবাদ এবং পরবর্তীতে রক্তাক্ত আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শ্রমিক দিবস প্রতিষ্ঠা পায়।
সভায় জসীম চৌধুরী সবুজ বলেন, শ্রমিকের আত্মদানে প্রতিষ্ঠিত মে দিবস পরিণত হয়েছে শ্রমিকের অধিকার আদায়ের দিবসে। মে দিবস তাই আজ হাজার হাজার শ্রমিকের পায়ে চলা মিছিলের কথা, আপসহীন সংগ্রামের কথা, শাসকদের বিরুদ্ধে শোষিত মানুষের দৃপ্ত সংগ্রামের শপথ।
এই আয়োজনে শ্রমিকের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণসংগীত পরিবেশন করেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের শিল্পী-কর্মীরা, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন বিশ্বতান এর শিল্পীবৃন্দ, প্রতিবাদী আবৃত্তি করেন শান্তা সেন গুপ্ত, একক সংগীত পরিবেশন করেন সীমা দাশ। এরপর স্কেচ গ্যালারি নন্দনের পরিবেশনায় পথনাটক ‘গুপ্তবিদ্যা’ মঞ্চস্থ হয়।


