রাজধানীর কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেল চালকের মাথায় প্রায় ১০ ইঞ্চি আকারের একটি ইট দিয়ে আঘাত করার ঘটনাটি পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটেছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। একই দাবি করেছে আহত রাফির পরিবার।
গুরুতর আহত রাফি বর্তমানে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এটি কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়। ঘটনার দিন রাত ২টার দিকে ঘটনাস্থলের পাশ থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
ইট দিয়ে আঘাতকারী পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ফয়সাল ওরফে কালুকেও গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা।
রাফি যে মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন, সেটিও তার নিজের নয় বলে জানান তিনি।
গুরুতর আহত সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন।
রাফির মা তানিয়া চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলের অবস্থা খুবই খারাপ। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।
স্বজনদের দাবি, হামলায় জড়িতদের মধ্যে পারভেজ ও কালু নামে দুই যুবক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্বজনদের ভাষ্য, রাফি পৈতৃক সূত্রে উল্লেখযোগ্য সম্পত্তির মালিক। তার কিছু সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে অন্য আত্মীয়রা ভোগদখল করে আসছেন। এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধও রয়েছে। রাফির বাবা মানসিকভাবে অসুস্থ এবং মা প্রবাসে থাকতেন। ফলে পারিবারিক সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারী রাফিই।
তারা জানান, ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকে এলাকার কয়েকজন যুবক রাফির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা শুরু করেছিলেন। বিষয়টি তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, ওই যুবকরা প্রকৃতপক্ষে রাফির বন্ধু ছিলেন, নাকি হামলার পেছনে তাদের কোনো ভূমিকা রয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) দিবাগত রাতে রাজধানীর পূর্ব শেওড়াপাড়ার আশরাফ আলী সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় এক তরুণ রাফিকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারেন। ইটের আঘাতে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে অচেতন হয়ে যান। এ সময় মোটরসাইকেলটি তার শরীরের ওপর পড়ে থাকে। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ইট নিক্ষেপকারী তরুণই পরে আহত রাফিকে মোটরসাইকেলের নিচ থেকে বের করার চেষ্টা করেন। পরে আরও একজন সেখানে এসে মোটরসাইকেলটি সরিয়ে নেন। এক পর্যায়ে আহত রাফিকে একটি অটোরিকশায় তুলে হাসপাতালে নেওয়া হয়।


