ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সেই পরিস্থিতি থেকে স্বাস্থ্যখাতকে পুনরুদ্ধার করতে বর্তমান সরকার সেবার মানোন্নয়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করছে।
বুধবার (১৭ জুন) কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ঝটিকা সফরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বিভাগ ও রান্নাঘর পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রান্নাঘরে গিয়ে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের মান দেখেন।
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও অপরিচ্ছন্নতা ও রোগীদের ব্যবহৃত বাথরুমের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় স্বাস্থ্যখাতে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি আর অর্থ লুটপাটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছিল। সেই অবস্থা থেকে বর্তমান সরকার মান বাড়ানোর পাশাপাশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে নতুন হাসপাতাল স্থাপন, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও লোকবল নিয়োগ করে স্বাস্থ্যখাতে গতি আনা হবে।’
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসে নিয়োগে অনিয়ম ও ফলাফল স্থগিতের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক জেলায় অনিয়ম হয়েছে। সেগুলো বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
তিন মাসের মধ্যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ পরিপূর্ণ চালু ও যন্ত্রপাতি সচল করার বিষয়ে উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সরদার সাখাওয়াত বলেন, ‘গত ১৭ বছরে হাসপাতালের উন্নয়নে কার্যকর কোনো কাজ হয়নি। কাজ করলে জবাবদিহিতা থাকে, কিন্তু মানুষ যেন সেই বিষয়টিই ভুলে গিয়েছিল। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নেতৃত্ব ক্ষমতায় ছিল না। যারা রাতের অন্ধকারে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না। আমরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছি এবং প্রধানমন্ত্রী আমাদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই আমরা কাজ করছি।’
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন এবং সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. কামাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


